‘বন্দে মাতরম’ আর ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগানে মুখরিত সংসদ। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে হাজির সাংসদেরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও অন্য নেতাদের সঙ্গে তিরঙ্গা হাতে সেই স্লোগানে মেলালেন গলা। আর এভাবেই মঙ্গলবার সংসদ ভবনের লাইব্রেরি বিল্ডিংয়ের জিএমসি বালযোগী অডিটোরিয়ামে স্মরণীয় হয়ে থাকল এনডিএ-র সাপ্তাহিক সংসদীয় দলের বৈঠক। যার পোশাকি নাম, মঙ্গল মিলন।
মোদির পাশাপাশি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নড্ডা, সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এবং আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল। বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতি মঙ্গলবারের এই বৈঠকের নাম বদলে করা হয়েছে ‘মঙ্গল মিলন’। শাসক জোটের শরিকদের মধ্যে সমন্বয় এবং সংসদে একসঙ্গে কৌশল ঠিক করাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।
মঙ্গলবারের বৈঠকটি তাৎপর্যপূর্ণ আরও একটি কারণে। বৃহস্পতিবারই শেষ হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। অর্থাৎ, এ দিনের ‘মঙ্গল মিলন’ই এই অধিবেশনে এনডিএ-র শেষ সাপ্তাহিক সংসদীয় বৈঠক। অধিবেশনের আর মাত্র দু’দিন বাকি। অথচ গোটা অধিবেশন জুড়েই একাধিক ইস্যুতে বিরোধীদের বিক্ষোভ ও হইচইয়ে বার বার অচল হয়েছে সংসদ। গুরুত্বপূর্ণ একাধিক বিল নিয়েও সরকারকে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শেষ দু’দিনে কী ভাবে সংসদ চালানো হবে, কোন কোন বিল পাশ করানো হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কগুলিতে শাসক শিবিরের অবস্থান কী হবে, মূলত সেই নিয়েই এ দিনের বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা। শরিক দলগুলির মধ্যে ফ্লোর কো-অর্ডিনেশন বা সংসদে সমন্বয় আরও মজবুত করাও আলোচনার অন্যতম বিষয়। এক কথায়, অধিবেশনের শেষ মুহূর্তে বিরোধীদের প্রতিবাদ সামলে বাকি আইনসভার কাজ দ্রুত শেষ করাই এখন এনডিএ-র সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে দেশজুড়ে ইতিমধ্যেই পালিত হচ্ছে হর ঘর তিরঙ্গা কর্মসূচি। তাই মঙ্গল মিলনের বৈঠকেও পতাকা নেড়েই নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন মোদি-শাহরা।