নয়াদিল্লি, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: ভারতের ভোটার তালিকায় SIR নিয়ে যখন দেশজুড়ে চর্চা, তখন এ বার আমেরিকার নির্বাচনী ব্যবস্থাতেও একই ধরনের কড়াকড়ির ইঙ্গিত? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য ঘিরে এমনই জল্পনা তৈরি হয়েছে। ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে তাঁর সরকারের কথা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।
সমাজ মাধ্যমে একটি পোস্টে ট্রাম্পের বক্তব্য, চলতি মাসের গোড়ায় জ্ঞানেশ তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘‘বৈধ, সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্র ছাড়া আমেরিকায় নির্বাচন হয় কী ভাবে?’’ সেই প্রসঙ্গেই মার্কিন নির্বাচনে ভোটার পরিচয় এবং নাগরিকত্ব যাচাই আরও কঠোর করার পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি।
ট্রাম্পের নিশানায় ‘SAVE America Act’। প্রস্তাবিত এই আইনে ভোটার হিসেবে নথিভুক্তির সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং সচিত্র পরিচয়পত্রের প্রয়োজনীয়তা আরও জোরদার করার কথা রয়েছে। পাসপোর্ট, জন্মের শংসাপত্রের মতো নথিকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে দেখানোর কথা বলা হয়েছে।
ট্রাম্পের যুক্তি, এর ফলে শুধুমাত্র মার্কিন নাগরিকরাই ভোট দিতে পারবেন এবং নির্বাচনী ব্যবস্থায় অনিয়মের সম্ভাবনা কমবে। ভারতের শেষ লোকসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক ভোটার অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প দাবি করেছেন, সেখানে ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা আরও কঠোর। তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সেরগিও গোরও। কংগ্রেসকে দ্রুত ওই আইন পাশ করানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনিও।
তবে ট্রাম্পের প্রস্তাব ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র আপত্তি উঠেছে। বিরোধীদের বক্তব্য, আমেরিকায় ভোট দেওয়ার অধিকার এমনিতেই মার্কিন নাগরিকদের। ফলে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের নামে নতুন করে নথিপত্রের শর্ত চাপানো হলে প্রকৃত ভোটাররাই সমস্যায় পড়তে পারেন।
বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ, প্রবীণ এবং সংখ্যালঘুদের একাংশের কাছে জন্মের শংসাপত্র বা পাসপোর্টের মতো নথি না থাকায় ভোটাধিকার প্রয়োগ কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা। সমালোচকদের অভিযোগ, এই ধরনের বিধি কার্যকর হলে ভোটার তালিকা থেকে বৈধ নাগরিকদের নাম বাদ পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হবে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের অবশ্য আরও বড় প্রশ্ন। এর পিছনে কি ট্রাম্পের নির্বাচনী অঙ্ক রয়েছে? অভিবাসন প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিয়ে ইতিমধ্যেই নিজের সমর্থকভিত্তি মজবুত করেছেন ট্রাম্প। এ বার নাগরিকত্ব ও ভোটার পরিচয়ের প্রশ্ন সামনে এনে ফের রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের।
তাঁদের আশঙ্কা, নতুন নিয়মের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটিগুলিতে। ফলে ভারতের SIR-এর সঙ্গে পুরোপুরি এক না হলেও, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ভোটার যাচাই প্রক্রিয়াকে ঘিরে আমেরিকায় নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। আর সেই বিতর্কের কেন্দ্রে এখন ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের নামও।