ওয়াশিংটন: প্রায় ৩৮ বছর আগে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল একটি মার্কিন সামরিক স্যাটেলাইট। মূল লক্ষ্য ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের রাডার সিগন্যালের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা। দীর্ঘ কয়েক দশক পর সেই স্যাটেলাইটই এখন মহাকাশে তৈরি করেছে নতুন রহস্য। ভেঙে যাওয়া স্যাটেলাইটের টুকরোগুলির মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ থেকে অস্বাভাবিক আলো বেরোতে দেখা যাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
১৯৮৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল স্যাটেলাইটটি। ঠান্ডা যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি সামরিক প্রকল্প। সোভিয়েত ইউনিয়নের রাডার সিগন্যাল সংগ্রহ করে তা মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল এর অন্যতম প্রধান কাজ।
কয়েক দশক মহাকাশে থাকার পর শেষ পর্যন্ত স্যাটেলাইটটি ভেঙে যায়। বর্তমানে পৃথিবী থেকে প্রায় ৭৭৫ কিলোমিটার উচ্চতায় তার বিভিন্ন অংশ ভেসে বেড়াচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। সাধারণত দীর্ঘদিন মহাকাশে থাকা পুরনো স্যাটেলাইট সময়ের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভেঙে যেতে পারে। কিন্তু এই স্যাটেলাইটের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি বিজ্ঞানী ও মহাকাশ বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে, তা হল ভেঙে যাওয়ার পরও এর একটি বড় অংশ থেকে অস্বাভাবিক আলোর নির্গমন।
এই আলোর উৎস কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মার্কিন স্পেস কমান্ডও বিষয়টিকে রহস্যজনক বলে দেখছে। আলো কেন বেরোচ্ছে এবং স্যাটেলাইটের কোন অংশ থেকে তার উৎপত্তি হচ্ছে, তা জানার চেষ্টা চলছে।
এই রহস্য সমাধানের জন্য এবার মহাকাশে পাঠানো হতে পারে বিশেষ একটি যান। উদ্দেশ্য হবে ভেঙে যাওয়া স্যাটেলাইটের অংশের কাছে পৌঁছে সেটিকে পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজন হলে ধরে আনা বা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। সহজ ভাষায়, মহাকাশে একটি পুরনো স্যাটেলাইটের ‘গ্রেফতারি’ করার মতো অভিযান হতে পারে এটি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবরের শুরুতেই এই অভিযান শুরু হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। সফল হলে ভেঙে যাওয়া কোনও মহাকাশযানের অংশকে কাছ থেকে পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
তবে অভিযানটি কেন প্রয়োজন, তা নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। অস্বাভাবিক আলোর প্রকৃত উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারবেন স্যাটেলাইটের ভিতরে কী ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। একইসঙ্গে মহাকাশে দীর্ঘদিন ধরে থাকা পুরনো সামরিক প্রযুক্তির অবস্থা সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
মহাকাশে বর্তমানে হাজার হাজার সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় স্যাটেলাইট এবং বিভিন্ন ধরনের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। এগুলির কোনওটি সক্রিয় স্যাটেলাইট বা মহাকাশযানের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে বড় ধরনের বিপদ তৈরি হতে পারে। তাই পুরনো মহাকাশযানের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে সেগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রযুক্তি ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
প্রায় চার দশক আগে ঠান্ডা যুদ্ধের সময় যে স্যাটেলাইটটি গোপন সামরিক দায়িত্ব পালন করেছিল, সেটিই এখন নতুন এক মহাকাশ রহস্যের কেন্দ্রবিন্দু। অক্টোবরের সম্ভাব্য অভিযান সেই রহস্যের কতটা সমাধান করতে পারে, সেদিকেই নজর থাকবে গোটা বিশ্বের।
