স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার। দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় পুরোটাই পরিবেশিত হল জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর সেনাবাহিনীর ব্যান্ডে বাজল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদাপ্রাপ্ত এই মহান গানটি। তার পর যথারীতি গাওয়া হয় জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’। উল্লেখ্য, এ বছরই ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি।
লালকেল্লায় এ দিন জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মুহূর্তটি মুখরিত ছিল ২১ বার তোপধ্বনিতে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ১০৫ মিলিমিটার লাইট ফিল্ড গান দিয়ে সেই তোপধ্বনি করে ১৭২১ ফিল্ড ব্যাটারি (সেরিমোনিয়াল)। এর পরই সেনাবাহিনীর ব্যান্ডে বেজে ওঠে ‘বন্দে মাতরম’। একই সময়ে ভারতীয় বায়ুসেনার দু’টি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার পুষ্পবৃষ্টি করে লালকেল্লার উপর। একটি হেলিকপ্টারে ছিল জাতীয় পতাকা। অন্যটিতে লেখা ছিল ‘বন্দে মাতরম’।
ভাষণে এই মুহূর্তের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। মোদি বলেন, ‘‘স্বাধীনতার পর এই প্রথম লালকেল্লায় ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশিত হল।’’ স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া এই গান এখন দেশের জাতীয় চেতনায় বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। স্বদেশি আন্দোলনের সময় ‘বন্দে মাতরম’ গণআন্দোলনের সঙ্গীতে পরিণত হয়েছিল বলেও আগের দিন জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে স্মরণ করিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
ইতিমধ্যেই জাতীয় সঙ্গীতের সমান আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বন্দে মাতরম’-কে। রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর ২০২৬-এর সংশোধিত আইনে জাতীয় স্তোত্র গাওয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দিলে বা অপমান করলে কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা দু’টিই হতে পারে। স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষে তাই লালকেল্লার অনুষ্ঠানে পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’-এর পরিবেশন নিঃসন্দেহে এক তাৎপর্যপূর্ণ সংযোজন। সরকারি নথি অনুযায়ী, ১৯০৫ সালের ৭ অগস্ট ‘বন্দে মাতরম’ প্রথম রাজনৈতিক স্লোগান হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছিল। উল্লেখ্য, গানটি বঙ্কিমচন্দ্রের 'আনন্দমঠ' উপন্যাসের অংশ।