বর্ষার মরশুম এলেই হয়ে পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। জীবন যেন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘীর এলাকার একাধিক গ্রামের মানুষদের। এই এলাকার খালের উপরে রয়েছে একটি অস্থায়ী সেতু সামান্য বৃষ্টিতেই সেতু চলে যায় জলের তলায়। এতে প্রতিদিনই প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সবচাইতে বেশি ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে ক্ষুদে পড়ুয়াদের। কাঁধে সাইকেল তুলে স্থানীয় যুবকদের সহযোগিতায় সেতু পারাপার করতে হয় তাদের। যেকোনো মুহূর্তেই ঘটতে পারে বড়সড় দুর্ঘটনা।
সাগরদিঘীর বোখরা ২ নম্বর অঞ্চলের দুহাল দুর্গা মন্দির থেকে ধামুয়া এমএসকে স্কুলের সংযোগকারী এই সেতুটি বর্ষার জলে তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ৫ থেকে ৬ টি গ্রামের বাসিন্দারা। যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এই সেতুটি। সেতুর রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘুর পথে যোগাযোগ স্থাপন করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
জেলা পরিষদের উদ্যোগে প্রায় ১ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে কিন্তু ভগ্নদশার সেতুটি আগের অবস্থাতেই পড়ে রয়েছে। তাই বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। যদি সেতু মেরামত না হয় তাহলে এই রাস্তা কি কাজে লাগবে বলে প্রশ্ন তুলছে স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, প্রবল জলস্রোতে যে-কোনো মুহূর্তে সেতুটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে ধুমারপাহাড় ও রতনপুর হয়ে কয়েক কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে যাতায়াত করা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকবে না। তাই সময় থাকতে এই সেতু মেরামত করা উচিত প্রশাসনের। তা না হলে একেবারে দুর্বিষহ হয়ে উঠবে এই এলাকার জনজীবন।
মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এ বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। যত দ্রুত সম্ভব এই সেতু মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে। যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে সেদিকেই নজর দেবে প্রশাসন।
যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই সেতু। বর্ষার জলে সেতুর অবস্থা বেহাল হয়ে উঠেছে। বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লেই সেতু জলের নিচে চলে যায়। তখন এক প্রকার জীবন বাজি রেখেই চলাচল করতে হয় স্থানীয়দের। গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু কবে মেরামত হয় সেটার অপেক্ষায় স্থানীয়রা।