কলকাতা: রাজনৈতিক হিংসায় পরিবারের উপার্জনকারী সদস্যকে হারিয়েছেন? এবার সেই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বিশেষ সরকারি চাকরি প্রকল্প চালু করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণার পর এই প্রকল্পের বিস্তারিত নিয়ম ও যোগ্যতার শর্ত জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ২০০১ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের একজন নির্ভরশীল সদস্য এই প্রকল্পের আওতায় সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
কারা পাবেন চাকরি?
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী, পুত্র এবং কন্যা আবেদন করতে পারবেন। আইনত দত্তক নেওয়া সন্তানও এই সুবিধার আওতায় আসবেন। তবে একটি পরিবার থেকে মাত্র একজনকেই চাকরি দেওয়া হবে। একই ঘটনায় মৃত ব্যক্তির পরিবারের কেউ আগে ক্ষতিপূরণ হিসেবে সরকারি চাকরি পেয়ে থাকলে, সেই পরিবার নতুন করে এই সুবিধা পাবে না।
কোন পদে মিলবে চাকরি?
রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতর, অধিদফতর, কালেক্টরেট এবং সরকারি অফিসে গ্রুপ-ডি পদে নিয়োগ করা হবে। প্রয়োজনে এই প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত পদও তৈরি করা হবে। তবে আবেদন করলেই চাকরি নিশ্চিত নয়। যোগ্যতা যাচাই, পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং মেডিক্যাল পরীক্ষা বাধ্যতামূলক।
কীভাবে করবেন আবেদন?
নির্ধারিত Form-A পূরণ করে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকের দফতরে আবেদন জমা দিতে হবে। যে জেলায় রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাটি ঘটেছিল, সেই জেলার জেলাশাসকের কাছেই আবেদন করতে হবে।
যে নথিগুলি লাগবে:
১. মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর শংসাপত্র।
২. আবেদনকারীর সঙ্গে মৃত ব্যক্তির সম্পর্কের প্রমাণ।
৩. সংশ্লিষ্ট ঘটনার FIR।
৪. চার্জশিটের কপি।
৫. আদালতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের নথি।
৬. যোগ্যতার অন্যান্য প্রমাণপত্র।
৭. নির্ধারিত Form-D-তে হলফনামা।
আবেদন বাতিল হলে কী করবেন?
জেলা স্তরের স্ক্রিনিং কমিটি আবেদন পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবে। সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে ৩০ দিনের মধ্যে Form-B পূরণ করে রাজ্য স্তরের কমিটির কাছে আপিল করা যাবে। বিশেষ কারণ থাকলে দেরিতে করা আপিলও গ্রহণ করা হতে পারে। আপিলের সর্বোচ্চ ছয় মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
চাকরি পাওয়ার পরেও রয়েছে শর্ত
চাকরিপ্রাপককে প্রতি বছর ৩১ জানুয়ারির মধ্যে Form-C জমা দিয়ে অঙ্গীকার করতে হবে যে তিনি মৃত ব্যক্তির পরিবারের অন্যান্য নির্ভরশীল সদস্যদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেবেন।
তবে এই প্রকল্পে আবেদনের শেষ তারিখ এখনও আলাদাভাবে নির্ধারণ করবে রাজ্য সরকার। তাই আবেদনকারীদের সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও পরবর্তী নির্দেশিকার দিকে নজর রাখতে হবে।




