কলকাতা: স্কুল আছে, পরিকাঠামো আছে, শিক্ষকও রয়েছেন কিন্তু পড়ুয়া নেই একজনও। রাজ্যের এমন ৪,১৩৩টি সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুল নিয়ে এবার বড় সিদ্ধান্তের পথে রাজ্য সরকার। পড়ুয়াশূন্য স্কুলগুলির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নির্ধারণ করতে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রয়োজনে ওই স্কুলগুলিকে অন্য সরকারি বা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা PPP মডেলেও পরিচালনার ভাবনা রয়েছে।
জানা গিয়েছে, এই ৪,১৩৩টি স্কুলে বর্তমানে কোনও পড়ুয়া নেই। অথচ সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলির সঙ্গে প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষক যুক্ত রয়েছেন। ফলে পড়ুয়া না থাকা সত্ত্বেও স্কুলগুলির ভবন, জমি, পরিকাঠামো এবং শিক্ষক সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই কারণেই এবার স্কুলগুলির বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ভবিষ্যৎ ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলাস্তরে হবে পর্যালোচনা
শিক্ষা সচিবের নির্দেশের পর ইতিমধ্যেই জেলাশাসকদের তরফে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রতিটি জেলায় একটি করে কমিটি স্কুলগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে। স্কুলগুলির অবস্থান, ভবনের অবস্থা, জমির পরিমাণ, পরিকাঠামো এবং আশপাশের এলাকার প্রয়োজনীয়তা—একাধিক বিষয় বিবেচনা করা হবে।
এরপর সংশ্লিষ্ট স্কুল ভবন কীভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, তা নিয়ে জেলাস্তরের কমিটি প্রস্তাব পাঠাবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শুধু স্কুল হিসেবেই থাকবে না?
প্রাথমিকভাবে যে সম্ভাবনাগুলি সামনে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে স্কুল ভবনকে স্বাস্থ্যকেন্দ্র, প্রশিক্ষণকেন্দ্র কিংবা অন্য কোনও জনস্বার্থমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা। স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী কোনও ভবন সরকারি পরিষেবার কাজে ব্যবহার করা যায় কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
কিছু ক্ষেত্রে আবার স্কুলগুলিকে নতুনভাবে চালু করার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হতে পারে। সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী PPP মডেল গ্রহণের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। অর্থাৎ সরকারি পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
কলকাতার ক্ষেত্রেও নজর
এই প্রক্রিয়া শুধু জেলার স্কুলগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। জানা গিয়েছে, কলকাতা পুরসভার কমিশনারকেও শিক্ষা দফতরের তরফে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ফলে কলকাতায় থাকা পড়ুয়াশূন্য স্কুলগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েও একইভাবে পর্যালোচনা হতে পারে।
আগামী ৩০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট তৈরির কাজ শেষ করার নির্দেশ থাকায় খুব শীঘ্রই এই স্কুলগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে। তবে কোন স্কুল কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নির্ভর করবে জেলাস্তরের পর্যালোচনা এবং সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর।