কলকাতা, নিউজ ডেস্ক : এতদিন যে জায়গাগুলির সঙ্গে আকাশপথের যোগাযোগ ছিল কার্যত অধরা, সেখানে দেখা দিতে চলেছে নতুন সম্ভাবনার দরজা। রাজ্যের একাধিক প্রান্তকে বিমান পরিষেবার আওতায় আনার উদ্যোগে ইতিমধ্যেই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ৫ অক্টোবর নবান্নে স্বাক্ষরিত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ত্রিপাক্ষিক সমঝোতা চুক্তি। কেন্দ্র রাজ্য এবং এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার মধ্যে এই চুক্তির ফলে পশ্চিমবঙ্গের চারটি এলাকা যুক্ত হতে চলেছে 'উড়ান' প্রকল্পের আওতায়।
'উড়ান ২.o' প্রকল্পের মাধ্যমে বিমান মানচিত্রে জায়গা করে নিতে চলেছে পুরুলিয়ার ছররা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বারুইপুর, আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুন্ডা। এর মধ্যে ছররা ও বালুরঘাটের পুরনো এয়ারস্ট্রিপকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, হাসিমারা ও কলাইকুন্ডাই ভারতীয় বায়ুসেনার বিদ্যমান ঘাঁটির পরিকাঠামো ব্যবহার করে তৈরি করা হবে সিভিল এনক্লেভ। চুক্তি অনুযায়ী, বিমানবন্দরগুলির জন্য প্রয়োজনীয় জমি, যোগাযোগের রাস্তা, বিদ্যুৎ, জল এবং প্রাথমিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার। বিমানবন্দরের রানওয়ে, যাত্রী টার্মিনাল, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো তৈরির দায়িত্ব থাকবে কেন্দ্রের। পরবর্তীতে বিমানবন্দর পরিচালনা করবে এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বা AAI।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বিমানবন্দরগুলিতে ৭২ টি আসনের বিমান চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। ফলে, ছোট শহর ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য দ্রুত যাতায়াতের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স, জঙ্গলমহল ও মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকার সঙ্গে রাজ্যের অন্যান্য অংশের আকাশ পথে যোগাযোগ আরও সহজ হতে পারে। নতুন বিমান পরিষেবা চালু হলে শুধুমাত্র যাত্রী পরিবহন নয়, তার প্রভাব পড়তে পারে পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিল্প ক্ষেত্রেও। ডুয়ার্সের পর্যটন, জঙ্গলমহলের প্রাকৃতিক আকর্ষণ কিংবা মেদিনীপুরের শিল্পাঞ্চল, সবকিছুকেই আরও সহজে দেশের অন্যান্য প্রান্তের সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
একইসঙ্গে, এই প্রকল্পের ফলে নতুন বিনিয়োগ আসার পথও প্রশস্ত হতে পারে। বিমান যোগাযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে পরিষেবা, পর্যটন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের বিমান যোগাযোগের মানচিত্রে শুধুমাত্র চারটি নতুন নামই যোগ হবে না, বরং বদল আসতে পারে সংশ্লিষ্ট অঞ্চল গুলির অর্থনৈতিক গতিতেও।