নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে ঘরছাড়াদের আইনি সাহায্য দিতে গিয়ে আইনজীবী ও মহিলা আইনজীবীদের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়াল বাঁকুড়া জেলা আদালত চত্বরে। পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের নবনির্বাচিত সদস্য তথা কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী শামিম আহমেদ ও তাঁর প্রতিনিধিদলের ওপর হওয়া হামলার প্রতিবাদে সোচ্চার হলেন বাঁকুড়ার আইনজীবীরা। আদালত চত্বরে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সভায় শামিল হয়ে বার কাউন্সিলের সদস্য ও স্থানীয় আইনজীবীরা একযোগে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি তোলেন।
ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা ও শালবনি এলাকায়। রাজনৈতিক হিংসার শিকার হয়ে দীর্ঘদিন ঘরছাড়া থাকা পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় আইনি পরামর্শ দিতে কলকাতা থেকে আইনজীবীদের একটি বিশেষ প্রতিনিধিদল সেখানে পৌঁছায়।
অভিযোগ, শালবনি থানা এলাকায় পৌঁছতেই তাঁদের গতিবিধি লক্ষ্য করে অতর্কিতে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। শামিম আহমেদ সহ অন্যান্যদের গাড়ি ঘিরে ধরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। শুধু তা-ই নয়, প্রতিনিধিদলে থাকা মহিলা আইনজীবীদের শারীরিক নিগ্রহ ও হেনস্থা করা হয় বলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কোনোমতে এলাকা ছেড়ে প্রাণ বাঁচিয়ে ফিরে আসেন আইনজীবীরা।
আইনজীবীদের মতে পেশাদারদের ওপর এমন নজিরবিহীন আক্রমণের খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে আইনজীবী মহলে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারই আঁচ এসে পৌঁছায় বাঁকুড়া আদালতে। আদালত চত্বরে আইনজীবীরা জমায়েত হয়ে স্লোগান তোলেন এবং বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের বক্তব্য, আইনব্যবস্থা এবং ন্যায়েরক্ষার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দায়িত্ব পালনে বাধা দিতেই পরিকল্পিতভাবে এই আঘাত হানা হয়েছে।
বিক্ষোভ সভায় উপস্থিত আইনজীবীদের কথায়, পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো রাজনৈতিক রং বিচার করা হয় না,দলমত নির্বিশেষে সাধারণ নাগরিকের মৌলিক ও আইনি অধিকার রক্ষা করাই তাঁদের কর্তব্য। সেখানে আইনি সহায়তা দিতে যাওয়া প্রতিনিধিদের উপর লাঠি-রড নিয়ে হামলা চালানো কোনো সুস্থ গণতান্ত্রিক সমাজ মেনে নিতে পারে না। মহিলা আইনজীবীদের লাঞ্ছনার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলার ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে প্রশাসনের উদ্দেশে আইনজীবীরা দাবি জানান, এই ঘটনার নেপথ্যে যারা রয়েছে, দলমত নির্বিশেষে তাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত এলাকায় আইনি সহায়তা প্রদানকারী আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও উঠেছে।
বার কাউন্সিলের সদস্যরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পুলিশ-প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আগামী দিনে আন্দোলনের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে এবং বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন আইনজীবীরা।
