নিউজ ডেস্ক: বিমানে উঠলেই যাত্রীদের একাধিকবার জানানো হয়, বিমানে ধূমপান নিষিদ্ধ। কিন্তু কখনও বিমানের বাথরুমে ঢুকে লক্ষ্য করেছেন কি, দরজার কাছে ছোট্ট একটি অ্যাশট্রে রয়েছে? প্রথম দেখায় বিষয়টি বেশ অদ্ভুত মনে হতে পারে। যেখানে সিগারেট ধরানোই নিষেধ, সেখানে অ্যাশট্রে রাখার প্রয়োজন কী?
আসলে এর পিছনে রয়েছে বিমানের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। অ্যাশট্রেটি ধূমপানের অনুমতি দেওয়ার জন্য নয়, বরং কেউ নিয়ম ভেঙে সিগারেট ধরালে তার জ্বলন্ত অবশিষ্টাংশ যাতে আগুনের বড় ঝুঁকি তৈরি না করে, সেই নিরাপত্তার জন্য।
বিমানের বাথরুমে সাধারণত কাগজ, টিস্যু ও অন্যান্য দাহ্য বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা থাকে। কোনও যাত্রী গোপনে সিগারেট খেয়ে সেটি পুরোপুরি না নিভিয়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিলে সেখানে আগুন ধরে যেতে পারে। বিমানের ভিতরে এমন আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। এই সম্ভাব্য বিপদ কমাতেই অ্যাশট্রের ব্যবস্থা রাখা হয়।
মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (FAA) নথি অনুযায়ী, ১৯৭৩ সালে একটি ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার পর বিমানের ল্যাভেটরিতে অ্যাশট্রে বসানোর বিষয়ে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। FAA-র নথিতে বলা হয়েছে, ১৯৭৩ সালের Varig Boeing 707 দুর্ঘটনাটি বিমানের পিছনের বাথরুমে আগুন লাগার সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরবর্তী সময়ে ল্যাভেটরি ডাস্টবিনের অগ্নিনিরাপত্তা এবং অ্যাশট্রে সংক্রান্ত একাধিক বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
FAA-র ১৯৭৪ সালের একটি Airworthiness Directive-এ পরিবহণ শ্রেণির বিমানের ল্যাভেটরি দরজার কাছে দৃশ্যমান জায়গায় অ্যাশট্রে বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে বাথরুমে ‘No Smoking’ এবং সিগারেট ফেলার নিষেধাজ্ঞার নির্দেশও রাখার কথা বলা হয়। অর্থাৎ অ্যাশট্রে রাখা হয়েছিল ধূমপানকে উৎসাহিত করার জন্য নয়, বরং নিয়ম ভাঙার ঘটনা ঘটলেও সম্ভাব্য আগুনের ঝুঁকি কমানোর জন্য।
আরও মজার বিষয় হল, পরবর্তী বিমান নিরাপত্তা বিধিতে ল্যাভেটরির আগুন শনাক্ত করার জন্য smoke detector এবং বর্জ্য রাখার জায়গায় স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার মতো সুরক্ষাও যুক্ত করা হয়েছে। FAA-র বর্তমান নির্দেশনাতেও ল্যাভেটরি এলাকায় অ্যাশট্রেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
১৯৭৩ সালের Varig দুর্ঘটনাটি ছিল এই নিরাপত্তা পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ। FAA-র দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ১১ জুলাই ১৯৭৩ প্যারিসের কাছে Varig Boeing 707-এর পিছনের ল্যাভেটরিতে আগুন লাগে। বিমানটি জরুরি অবতরণের চেষ্টা করলেও দুর্ঘটনায় ১২৪ জনের মৃত্যু হয়। পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলির মধ্যে ল্যাভেটরিতে ধোঁয়া শনাক্তকরণ, বর্জ্যপাত্রে আগুন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা এবং অ্যাশট্রে বসানোর মতো পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তাই বিমানের বাথরুমে অ্যাশট্রে দেখে অবাক হওয়ার কিছু নেই। সেটি কোনওভাবেই ‘বাথরুমে সিগারেট খাওয়ার অনুমতি’ নয়। বরং বিমান নিরাপত্তার একটি পুরনো শিক্ষা থেকে তৈরি ব্যবস্থা, আগুনের ঝুঁকি কমানোই যার মূল উদ্দেশ্য।
তবে যাত্রীদের জন্য নিয়ম একই থাকে, বিমানে এবং বিশেষ করে ল্যাভেটরিতে ধূমপান করা নিষিদ্ধ। অ্যাশট্রে থাকার অর্থ কখনওই সেই নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়া নয়।
