প্রতিবছর ১৫ ই আগস্ট স্বাধীনতা দিবস হিসাবে উদযাপন করা হয় ভারতে। কিন্তু কেন এই ১৫ই আগস্ট দিনটিকেই স্বাধীনতার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল তার নেপথ্যে রয়েছে অজানা এক গল্প।
১৯৪৮ সালের ৩০ শে জুন ভারত ব্রিটিশ মুক্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে সালটা এক থাকলেও বদলে যায় তারিখ। ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট দিনটিকে স্বাধীনতা দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়। তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে কেবলমাত্র রাজনৈতিক কারণই ছিল না, পাশাপাশি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শক্তি, এবং লর্ড মাউন্টব্যাটেনের ভূমিকা ছিল অনেকটাই।
১৯২৯ সালে লাহোর অধিবেশনে পন্ডিত জহরলাল নেহেরু পূর্ণ স্বরাজ ঘোষণা করলে স্বাধীনতার ভিত্তি স্থাপন করা হয়। যদিও এর আগে মহাত্মা গান্ধী, জিন্নাহ এবং তেজ বাহাদুর সাপ্রুর মতো নেতারা ব্রিটিশ ভাইসরয়ের কাছে সম্পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি করেছিলেন। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার সেটা দিতে রাজি হয়নি।
ব্রিটিশ সরকার একটি ডোমিনিয়ান স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন ভারতকে। যেটাতে লেখা ছিল ভারত সীমিত স্বায়ত্তশাসন পাবে। তবে ভারত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অংশ হিসেবে থাকবে। যদিও ভারতীয় নেতারা সেটি প্রত্যাখ্যান করেন এবং সিদ্ধান্ত নেন ২৬ শে জানুয়ারি স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালিত হবে। এই সিদ্ধান্ত ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
অন্যদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটেন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই সময়ে ব্রিটিশ সরকার বুঝতে পেরেছিলেন তারা আর ভারত শাসন করতে পারবেন না। ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্ট ব্যাটেনকে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়। সমস্ত পরিস্থিতি বিচার করে তিনি ভারতকে দ্রুত স্বাধীনতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের ৩ জুন তারিখে মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। ১৯৪৭ সালের ১৫ ই আগস্ট দিনটি চূড়ান্ত করেন।
মাউন্টব্যাটেন তার 'ফ্রিডম এট মিড নাইট' বইতে উল্লেখ করেছেন, ১৫ আগস্ট তারিখটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের বার্ষিকী ছিল। সেই জন্যই তিনি ভারতের স্বাধীনতার জন্য ১৫ ই আগস্ট তারিখ টি বেছে নিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই ১৯৪৭ সালের ১৫ ই আগস্ট স্বাধীনতা লাভ করে। মাউন্টব্যাটেন উভয় দেশের স্বাধীনতা উদযাপনে যোগদানের জন্য ১৪ ই আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ ই আগস্ট ভারত সফর করেন। তাই পাকিস্তান তাদের স্বাধীনতা দিবস হিসাবে ১৪ই আগস্ট কে ঘোষণা করেছেন।