হাবিবুর রহমান, ঢাকা: রেহাই মিলল না, ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর পরিশোধ করতে হবে গ্রামীণ কল্যাণকে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে সোমবার (১২ অক্টোবর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের স্বাক্ষরের পর ১৫ ও ৩২ পৃষ্ঠার পৃথক রায় দুটি প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দেন হাইকোর্ট।
সেসময় গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী খাজা তানভির গণমাধ্যমকে বলেন, এনবিআরের যে দাবিটি আমরা হাইকোর্ট বিভাগে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম, আদালত আজ সেই রুল খারিজ করে দিয়েছেন। এর ফলে এনবিআরের দাবিটিই বহাল থাকল। প্রসঙ্গতঃ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর ৮ আগস্ট অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস শপথ নেন। এরপর রিট খারিজ করে দেওয়া আগের রায় প্রত্যাহার করে নেয় হাইকোর্ট। তবে মামলাটি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হলে হাইকোর্টের নতুন বেঞ্চের সামনে ফের শুনানি শুরু হয়। সেই শুনানির পরিপ্রেক্ষিতেই গত ১০ সেপ্টেম্বর নতুন রায় ঘোষণা করা হয়। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে প্রতিষ্ঠিত সাতটি প্রতিষ্ঠানের মধ্য গ্রামীণ কল্যাণ অন্যতম।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর গ্রামীণ কল্যাণকে পরিশোধ করতে হবে বলে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে।বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৯৬ সালের ৬ নভেম্বর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এনবিআরের দাবির বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণের দায়ের করা রিটের রুল খারিজ করে নতুন এই আদেশ দিয়েছেন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ। ফলে ৬৬৬ কোটি টাকার পুরোটা একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এখন যথাযথভাবে ডিমান্ড নোটিস ইস্যু করে সরকার তার রাজস্ব আদায় করতে পারবে, যে রাজস্বটা গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭ থেকে ফাঁকি দিয়ে আসছে। ডিমান্ড নোটিসটা ইস্যু করবে ডেপুটি কমিশনার অব ট্যাক্সেস। সাধারণত ৩০ দিন সময় দেওয়া হয় ডিমান্ড নোটিসে। আয়কর বাবদ এক দশক আগে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ৬৬৬ কোটি টাকা দাবি করেছিল এনবিআর। সেটির বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে আলাদা দু'টি রিট করে গ্রামীণ কল্যাণ।
এরপর দফায় দফায় শুনানি শেষে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামি লিগ সরকারের শেষদিকে উভয় রিট খারিজ করে রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট। এনবিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ২০১২-১৩ থেকে শুরু করে পরবর্তী পাঁচ অর্থবছরের আয়কর বাবদ তারা গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ৬৬৬ কোটি টাকা পাবেন। মূলত তহবিলের একটি অংশ বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালে গ্রামীণ কল্যাণ অধ্যাপক ইউনূসের হাতে গড়া আরেক প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে একটি চুক্তি করে। সেই চুক্তির আওতায়, গ্রামীণ কল্যাণ প্রায় ৫৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে দেয় গ্রামীণ টেলিকমকে। সেই অর্থের লভ্যাংশ হিসেবে গ্রামীণ কল্যাণের তহবিলে যে অর্থ জমা হয়ে থাকে, যা আয়কর যোগ্য বলে দাবি করেন এনবিআর কর্মকর্তারা। কিন্তু গ্রামীণ কল্যাণ সেটি মানতে নারাজ। এনবিআরের দাবির বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে আলাদা দু'টি রিট করে গ্রামীণ কল্যাণ। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেন।





