নয়াদিল্লি: বিদেশে থাকেন, অথচ কখনও বাড়ির কথা মনে পড়ে না ! এমন মানুষ বোধহয় খুঁজে পাওয়া কঠিন। ব্যস্ততার ভিড়ে হঠাৎই মন ছুটে যায় মায়ের হাতের রান্না, বাবার স্নেহভরা বকুনি কিংবা ঘরের সেই চেনা গন্ধের কাছে। আর সেই দূরত্ব যদি এক নিমেষে মুছে যায় একটি পার্সেলের হাত ধরে?
ঠিক এমনই এক আবেগঘন মুহূর্ত এখন ছুঁয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াকে। কানাডায় বসবাসকারী এক ভারতীয় তরুণীর কাছে ভারত থেকে পৌঁছেছে প্রায় ২০ কেজির একটি পার্সেল। বাক্সটি খুলতেই যেন হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের বাড়িটা এক লহমায় চলে এল তাঁর সামনে।
একের পর এক বেরিয়ে আসতে লাগল মায়ের হাতে তৈরি খাবার, বাড়ির মশলা, আচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় ছোট ছোট জিনিস, প্রিয় জলখাবার, যত্ন করে গুছিয়ে রাখা উপহার। প্রতিটি জিনিসেই যেন লেগে রয়েছে বাড়ির গন্ধ, মায়ের স্পর্শ আর বাবা-মায়ের অকৃত্রিম ভালবাসা। মুহূর্তেই আবেগে ভেসে যান তরুণী।
ভিডিয়োর ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন মাত্র চারটি শব্দ— 'A little piece of home.' অর্থাৎ, 'বাড়ির এক টুকরো অংশ।' কিন্তু সেই কয়েকটি শব্দের মধ্যেই যেন ধরা পড়েছে প্রবাসজীবনের না-বলা হাজার অনুভূতি। বাক্সটি ছিল ২০ কেজির, কিন্তু নেটিজেনদের কথায়, তার ওজন ছিল না ভালবাসার।
ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসতেই মন্তব্যের বন্যা। কেউ লিখেছেন, "এটা কোনও পার্সেল নয়, বাবা-মায়ের হৃদয় ভরে পাঠানো ভালবাসা।" আর এক জনের মন্তব্য, “মায়ের হাতের রান্নার গন্ধের কোনও বিকল্প হয় না। পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুন, সেই স্বাদই শেষ পর্যন্ত মানুষকে বাড়ির কথা মনে করিয়ে দেয়।”
অনেকে আবার নিজেদের অভিজ্ঞতার কথাও ভাগ করে নিয়েছেন। কেউ লিখেছেন, বিদেশে থাকা সন্তানের জন্য বাবা-মা যখন পার্সেল গোছান, তখন শুধু খাবার নয়, প্রতিটি জিনিসের সঙ্গে ভরে দেন আশীর্বাদ, চিন্তা আর অগাধ মমতা। সেই কারণেই এমন একটি বাক্স খুললে চোখের জল সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে।
আসলে, দূরত্ব শুধু মানচিত্রে বাড়ে, সম্পর্কের মধ্যে নয়। হাজার মাইল দূরে থাকলেও বাবা-মায়ের কাছে সন্তান আজও সেই ছোট্ট মানুষটিই। তাই সুযোগ পেলেই তাঁরা পাঠিয়ে দেন বাড়ির স্বাদ, শিকড়ের গন্ধ আর একরাশ ভালবাসা। আর সেই ভালবাসা কখনও চিঠিতে ধরা দেয়, কখনও ফোনের ওপারের কণ্ঠে, আবার কখনও ২০ কেজির একটি পার্সেলের ভিতর ভরে পৌঁছে যায় সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারে।
তাই এই ভাইরাল ভিডিও শুধু একটি পার্সেল খোলার গল্প নয়। এটি প্রতিটি প্রবাসী সন্তানের মনখারাপ, প্রতিটি বাবা-মায়ের অদৃশ্য টান এবং বাড়ি নামের সেই চিরন্তন আশ্রয়ের গল্প, যেখানে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছেটা কোনও দিনই ফুরোয় না।