কলকাতা: পড়ার টেবিলে বসতে না বসতেই মন চলে যায় মোবাইল, টেলিভিশন কিংবা ভিডিও গেমে! আজকের দিনে অধিকাংশ অভিভাবকেরই এটাই বড় অভিযোগ। কিন্তু শিশুর মনোযোগ বাড়াতে সব সময় কড়াকড়ি বা অতিরিক্ত পড়ার চাপই যে সমাধান নয়, তা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, প্রতিদিন মাত্র ২০-৩০ মিনিটের কয়েকটি সহজ শরীরচর্চাই শিশুর একাগ্রতা, স্মৃতিশক্তি এবং শেখার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়িয়ে তুলতে পারে।
চিকিৎসকদের কথায়, শরীরচর্চা শুধু শরীরকে ফিট রাখে না, মস্তিষ্কেও অক্সিজেন ও রক্তের প্রবাহ বাড়ায়। এতে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা উন্নত হয়, মনোযোগ দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখা সহজ হয় এবং নতুন বিষয় শেখার ক্ষমতাও বাড়ে। বিশেষ করে যেসব শিশু পড়াশোনায় সহজেই মনোযোগ হারায় বা বারবার বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে, তাদের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।
কোন ৬টি শরীরচর্চা সবচেয়ে উপকারী?
১. যোগব্যায়াম: বৃক্ষাসন, তাড়াসন বা বালাসনের মতো সহজ যোগাসন শিশুদের মন শান্ত রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে বাড়ায় একাগ্রতা ও মানসিক স্থিরতা।
২. জাম্পিং জ্যাকস: এই সহজ কার্ডিও ব্যায়াম শরীরে শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি মস্তিষ্ককে আরও সক্রিয় করে। পড়াশোনা শুরুর আগে কয়েক মিনিট করলেই উপকার মিলতে পারে।
৩. এক পায়ে ভারসাম্য রাখার অনুশীলন: এক পায়ে দাঁড়ানো বা ব্যালান্সের অনুশীলন শুধু শরীর নয়, মস্তিষ্কের সমন্বয় ক্ষমতাও বাড়ায়। এতে মনোযোগ ধরে রাখার দক্ষতা উন্নত হয়।
৪. ক্রস-ক্রল এক্সারসাইজ: ডান হাত দিয়ে বাঁ হাঁটু এবং বাঁ হাত দিয়ে ডান হাঁটু স্পর্শ করার এই সহজ ব্যায়াম মস্তিষ্কের দুই অংশের মধ্যে সমন্বয় বাড়ায়। ফলে স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতা উন্নত হতে পারে।
৫. দড়ি লাফ: শুধু খেলাধুলা নয়, দড়ি লাফ শিশুর শরীরের সমন্বয়, গতি এবং মনোযোগ— তিনটিই বাড়ায়। পাশাপাশি এটি একটি চমৎকার কার্ডিও ব্যায়াম।
৬. গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস ও প্রাণায়াম: প্রতিদিন কয়েক মিনিট গভীর শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস উদ্বেগ কমায়, মন শান্ত রাখে এবং পরীক্ষার আগে মানসিক চাপও অনেকটা কমিয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ব্যায়াম করলেই হবে না। পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার, নির্দিষ্ট সময়ে পড়াশোনা এবং স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ— এই চারটি বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দীর্ঘ সময় মোবাইল বা ট্যাবের সামনে কাটালে শিশুর মনোযোগ এবং স্মৃতিশক্তির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
চিকিৎসকদের বার্তা স্পষ্ট— শুধু পড়ার সময় বাড়ালেই ভালো ফল আসে না। সুস্থ শরীর, সক্রিয় মস্তিষ্ক এবং আনন্দময় দৈনন্দিন জীবনই একজন শিশুকে আরও মনোযোগী, আত্মবিশ্বাসী এবং পড়াশোনায় সফল করে তুলতে পারে।