উড়ানের আগেই যেন নরক যন্ত্রণা। প্রচন্ড গরমে যেন হাঁসফাঁস অবস্থা। দিল্লি থেকে পুনে স্পাইসজেটের বিমানে চরম ভোগান্তির শিকার হন ১৫০ জন যাত্রী। মঙ্গলবার রাতে SG-105 বিমানের শীত তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিকল হয়ে যাওয়ায় কেবিনের ভিতর অসণীয় গরম তৈরি হয়।
যাত্রীদের বক্তব্য অনুযায়ী বিমানটি রাত ৯ টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু পরে সেই সময় পিছিয়ে রাত ১০ টা ৪৫ করা হয়। যাত্রীরা বিমানে ওঠার পরে বুঝতে পারেন বিমানের এসি ঠিক কাজ করছে না। ফলে বিমান রানওয়ের দিকে এগোতে থাকলেও ঠান্ডা হওয়ার বদলে কেবিন অসহ্য গরম হয়ে যায়। তাদের দাবি কিছুক্ষণ পর বিমানের ব্লোয়ার থেকে গরম বাতাস বের হতে শুরু করে। এরপর গরমে অনেকেই অসুস্থ হতে শুরু করছিল। শিশু ও বয়স্কদের পাশাপাশি একজন গর্ভবতী মহিলা অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন বলে জানা যায়। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন যাত্রীরা এবং বিমানটিকে বাতিল করার দাবি করেন। তাদের প্রতিবাদের জেরে শেষ পর্যন্ত উড়ান বাতিল করা হয়।
বিমান থেকে নামার পর যাত্রীদের দীর্ঘক্ষন অপেক্ষা করতে হয়। প্রথমে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেয়া হলেও রাত দুটো নাগাদ যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য বিমানটিকে বাতিল করা হয়েছে বলে জানানো হয়। যাত্রীদের আরো অভিযোগ দীর্ঘক্ষন অপেক্ষা করার সময় তাদের খাবার ও পানিয়ের ব্যবস্থা করা হয়নি। এমনকি অসুস্থ গর্ভবতী মহিলার জন্য অ্যাম্বুলেন্স আসতে অনেক দেরি করে। জাতীয় ক্রীড়া সমন্বয়কারী লেশপাল জাভালগে ওই ফ্লাইটে ছিলেন তিনি বলেন, ‘বিমানে ওঠার পর এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেমের ত্রুটির কারণে হঠাৎ দমবন্ধ করা পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিমানটি রানওয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল বলে আমরা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করছিলাম। আশা করছিলাম যে এসি শীঘ্রই চালু হবে। কিন্তু তা হয়নি।’
শেষপর্যন্ত প্রায় ১২ ঘণ্টা ভোগান্তির পর বুধবার ভোরে বিকল্প বিমানের ব্যবস্থা করে স্পাইসজেট। জানা যায়, ভোর ৫ নাগাদ দিল্লি থেকে বিমানটি ছাড়ে এবং সকাল ৭ নাগাদ পুনে তে পৌঁছায়। স্পাইসজেট এর তরফ থেকে প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা স্বীকার করা হয়েছে এবং যাত্রীদের অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে গোটা ঘটনায় বিমান রক্ষণাবেক্ষণ এবং যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।