কর্ণাটক, নিউজ ডেস্ক: লোকবসতি এলাকায় বন্যপ্রাণীর অবাধ আনাগোনা ও দৌরাত্ম্য যে সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য কতটা মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তার এক মর্মান্তিক প্রমাণ মিলল কর্নাটকে। বাড়ির দরজার হাঁটা চলা করার সময় আচমকা এক বুনো বাঁদরের তীব্র আক্রমণের মুখে পড়লেন এক অশীতিপর বৃদ্ধা।
বাঁদরটির সজোরে ধাক্কায় মাটিতে ছিটকে পড়ে গুরুতর জখম হন তিনি।পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ৯১ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধা। সোমবার কর্নাটকের কোপ্পাল জেলার বিটি পাতিল নগর এলাকায় ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
দেখুন: https://x.com/TweetzBallari/status/2101999133678596206?s=20
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত বৃদ্ধার নাম নাজামুনিসা বেগম (৯১)। তিনি বিটি পাতিল নগরের বাসিন্দা ছিলেন। অন্যান্য দিনের মতোই সোমবার নিজের বাড়ির সামনের চত্বরে একাই হাঁটা চলা করছিলেন তিনি। ঠিক তখনই একটি বাঁদর সেখানে হাজির হয়। বৃদ্ধা কিছু বুঝে ওঠার আগেই জন্তুটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক রূপ নিয়ে সরাসরি তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অতর্কিত এই হামলায় বৃদ্ধাকে সজোরে ধাক্কা মারে বাঁদরটি। ভারসাম্য হারিয়ে শক্ত মেঝের ওপর আছড়ে পড়েন তিনি।
এমন আকস্মিক ও তীব্র আঘাতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে, বিশেষ করে মাথায় মারাত্মক চোট লাগে। বৃদ্ধার চিকিৎসার শুনে পরিবারের সদস্যা তাকেও বাঁদরটি ঠেলে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে আসেন। রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে কালক্ষেপ না করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
চিকিৎসকেরা চেষ্টা চালালেও বয়স ও অতিরিক্ত আঘাতের কারণে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নাজামুনিসা বেগম। ঘটনার পর থেকেই বিটি পাতিল নগর ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলিতে গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।