কয়লা, বালি বা নিয়োগ দুর্নীতির পর এবার আন্তঃরাজ্য ভুয়ো সার্টিফিকেট ব়্যাকেট চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ মোট ৭ জনের বিরুদ্ধে এই সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি)। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা এবং অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায় ও অয়ন ঘোষ দস্তিদার। অভিযোগকারী অভিজিৎ দাসের দাবি, এই চক্রের শিকড় অনেক গভীরে ছড়ানো। তিনি জানান, শওকত মোল্লার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে তাঁর মনে সন্দেহ দানা বেঁধেছিল। নির্বাচনী হলফনামা খতিয়ে দেখে তিনি জানতে পারেন, প্রতি নির্বাচনেই শওকত মোল্লার শিক্ষাগত যোগ্যতা বদলে গিয়েছে। অন্য রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত কোর্সে পড়াশোনা করার যে দাবি শওকত করেছেন, তা ভৌগোলিক ও বাস্তবিকভাবে অসম্ভব। কারণ তিনি এ রাজ্যেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকতেন।
বিজেপি নেতার স্পষ্ট অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের মদতেই এই জাল শংসাপত্র বিক্রির কারবার চলছে। জীবনতলা থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করার আশ্বাস দিয়েছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আইনি লড়াইয়ে কোণঠাসা করতে কোমর বেঁধে নেমেছেন অভিজিৎ দাস। সই জালিয়াতি, বিতর্কিত মন্তব্য ও সেবাশ্রমে দুর্নীতির পর এবার ভুয়ো শংসাপত্রের এই নতুন মামলা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের ওপর আইনি চাপ আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।