পূর্ব মেদিনীপুরের চন্ডিপুরে তরুণী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য। স্ত্রীর মৃত্যুর পর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার আগেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন স্বামী। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মৃতার নাম সীমা দাস শাসমল। বয়স ২১ বছর। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার পায়রাচালি গ্রামের বাড়িতে পরচুলার রাসায়নিক খেয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে ওই তরুণী। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে চন্ডিপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীকালে, তমলুকের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। কিন্তু ঐদিন রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
রবিবার ময়নাতদন্তের জন্য সীমার দেহ তমলুক মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। ময়নাতদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র আনতে বাড়ি যান তার স্বামী মনোজিৎ শাসমল। দীর্ঘক্ষণ তিনি বাড়ি থেকে না বেরিয়ে আসার জন্য, প্রতিবেশীদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। দরজা খুলে সেখানে তাকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পান তারা। দ্রুত তাকে উদ্ধার করা হয়। এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন তিনি।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই, সীমার মৃত্যু ও তার স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও বিতর্ক উঠতে শুরু করেছে। সাথে সমাজ মাধ্যমেও বিভিন্ন দাবি ও জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে, পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিবারের তরফ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তমলুক থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। তরুণীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং তার স্বামী মনোজিৎ কেন আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন সেইদিকে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।