মানুষ মানুষের জন্য - ডঃ ভূপেন হাজারিকার কালজয়ী এই গান বাস্তব জীবনে আজও প্রাসঙ্গিক। অসমে বন্যা কবলিত মানুষদের ত্রাণ তহবিল সংগ্রহের জন্য এগিয়ে এলেন কত্থক নৃত্যশিল্পী তথা অভিনেত্রী মেঘরঞ্জনী মেধি। তার এই কর্মকাণ্ড এখন ভাইরাল সমাজ মাধ্যমে।
সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যায় লন্ডভন্ড হয়ে গেছে গোটা অসম। অসমের দুর্গত মানুষদের সাহায্যার্থে লন্ডনের রাজপথে মানুষ মানুষের জন্য গানটি পরিবেশন করে চান তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেন অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী মেঘরঞ্জনী মেধি। এই কর্মকাণ্ডে তার সঙ্গী ছিলেন অভিনেতা-স্বামী নীল দাস এবং ছাত্রী ইন্দ্রাণী। সামাজ মাধ্যমে এই ভিডিও প্রকাশের পরই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক।
নেটিজেনদের একাংশ দাবি করেন বিদেশে এইভাবে ত্রাণ সংগ্রহ করা অসম রাজ্যের ভাবমূর্তিকে লজ্জিত করে। পাশাপাশি অনেকেই এই কর্মসূচির প্রশংসাও করেছেন। তবে বুধবার বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
তিনি বলেন রাজ্যের বন্যা দুর্গতদের সাহায্যের জন্য লন্ডন বা বিদেশে গিয়ে হাত পাতার কোনো প্রয়োজন নেই। সরকার নিজের সামর্থেই দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে সক্ষম। তিনি আরো বলেন বেশ কয়েকদিন ধরে বন্যা কবলিত এলাকা ঘুরে দেখেছি। কোথাও মানুষের কোনো অসন্তোষ চোখে পড়েনি বরং সাধারণ মানুষ সরকারের উপর আস্থা রেখেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, যদি কেউ টেলিভিশন বা সামাজিক মাধ্যমে অসমের পরিস্থিতি দেখে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাহায্য করতে চান তাহলে সেটা অবশ্যই গ্রহণযোগ্য। তবে সাহায্য চাওয়ার জন্য বিদেশ গিয়ে আবেদন করার কোনো প্রয়োজন নেই।
এদিকে নেটিজেনদের বিতর্ক যখন তুঙ্গে তখন মঙ্গলবার রাতে একটি ভিডিও বার্তা অভিনেত্রী তথা নৃত্যশিল্পী জানান এটি শুধুমাত্র বন্যা দুর্গত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর একটি ছোট উদ্যোগ ছিল। নিজের শিল্পকলা প্রদর্শনের মাধ্যমে পাশে দাঁড়াতে চেয়েছি বন্যা কবলিত সাধারণ মানুষের।
সমালোচকদের উদ্দেশ্যেও অভিনেত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, তাকে নিয়ে বিতর্ক করে সময় নষ্ট না করাই ভাল উল্টে দুর্গত মানুষদের পাশে দাঁড়ানো এখন বেশি জরুরী। তার এই উদ্যোগকে ভিক্ষা বলে মনে করেন অনেকেই। কিন্তু নিজের মানুষের জন্য প্রয়োজন হলে তিনি সেই কাজ করতে দুবার ভাববেন না। তার দাবি রাস্তার পাশের এই শিল্প প্রদর্শন বাস্কিং নামে পরিচিত। এটা কোন লজ্জার বিষয় নয়। এটি সম্পূর্ণ একটি বৈধ প্রক্রিয়া। এই ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স তাদের কাছে ছিল।