বারুইপুর কাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই, আরো একটি নাবালিকাকে ঘিরে চাঞ্চল্য। এবার বাড়ি থেকে পালিয়ে আসা এক নাবালিকাকে যৌন নিগ্রহের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করা হল এক ব্যক্তিকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্কতা এবং পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে বড়সড় অপরাধ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর মিলেছে, কলকাতার বেলেঘাটা এলাকার বাসিন্দা ওই নাবালিকা পারিবারিক অশান্তির জেরে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে। নাবালিকার বয়স ১২-১৩ বছর। ট্রেনে করে শিয়ালদহ স্টেশনে পৌঁছনোর পর অভিযুক্তের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। যুবকের বয়স ৩৭। বাড়ি মথুরাপুর এলাকায়।
অভিযোগ, খাবার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে নাবালিকার আস্থা অর্জন করে ওই ব্যক্তি। এরপর তাকে ট্রেনে করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের শাসন এলাকায় নিয়ে আসে। সেখানে একটি ভাড়াবাড়িতে নিয়ে গিয়ে নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করে অভীযুক্ত। কিন্তু ঘরের ভিতর থেকে নাবালিকার চিৎকার শুনে সন্দেহ হয় বাড়ির মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এতেই দরজা খুলতে বাধ্য হয় ওই অভিযুক্ত। এরপরেই নাবালিকাকে উদ্ধার করেন তারা। খবর দেওয়া হয় বারুইপুর থানায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থানে আসে পুলিশ। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে এবং নাবালিকাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণের চেষ্টা এবং পকসো আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর এলাকায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা তথা বিজেপি কর্মী তাপস দেবনাথ জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি ঘর ভাড়া চাইতে এলে তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। বাড়ির মালিক তাকে আটকে রেখে এলাকাবাসীদের খবর দেন। পরে সকলের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশ নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে নিরাপদে বাড়ি ফিরিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি তার কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এরই পাশাপাশি নাবালিকার বয়ান রেকর্ড করে গোটা ঘটনার তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে পুলিশের পক্ষ থেকে।




