বাগদা,অঙ্কন দাস: স্কুল মানে বিদ্যার্থীদের সবকিছু।তাদের কাছে জ্ঞানের আলো। 'মন্দির-মসজিদ-গির্জা-গুরুদ্বোয়ারা-মঠ' সবকিছু।আর স্বাধীনতা দিবস পালন করে তারা;যারা বিদ্যার্থী। যারা আগামীর ভবিষ্যত, তাদের কাছে পুণ্যকর্ম। কিন্তু, সেই অনুষ্ঠানেই উঠল ধর্মীয় স্লোগান!স্লোগান তুলল 'সংখ্যালঘু' ছাত্রীরা! সোশাল মিডিয়ায় এই ভিডিও ভাইরাল হতেই তুঙ্গে উঠেছে বিতর্ক। লাগাতার প্রশ্নের মুখে ওই ছাত্রীরা দাবি করেছে, 'তারা নাকি লাড্ডু খেতে গিয়েছিল।' অর্থাৎ দেশের এমন একটা বিশেষ দিন তাদের কাছে কোনো অর্থই রাখে না। এই গর্বের দিনটির কোনও গুরুত্বই নেই তাদের কাছে। দিনটি তারা কেবল উদযাপন করে লাড্ডু খাওয়ার জন্য!
শনিবার ছিল ৮০ তম স্বাধীনতা দিবস। স্বাভাবিকভাবেই দেশের সবজায়গাতেই এই দিনটি উদযাপন করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই 'বাজিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়'র স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মিছিলের পাশাপাশি একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল। সেখানেই 'সংখ্যালঘু' সম্প্রদায়ের কয়েকজন ছাত্রী ধর্মীয় স্লোগান তোলে। নিমেষে ভাইরাল হয়ে যায় এই ভিডিয়ো।সোশাল মিডিয়ায় ওঠে তুমুল আলোড়ন। নেটাগরিকদের কাছে এটাই হয়ে ওঠে 'হট টপিক।' স্বাভাবিকভাবেই এই ভিডিওকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাগদা। কেন এই আচরণ তা নিয়ে প্রশ্ন করতেই নির্লিপ্ত কণ্ঠে ওই 'সংখ্যালঘু' ছাত্রীরা দাবি করে তারা লাড্ডু খেতে গিয়েছিল। ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে বাগদা ৩ নম্বর মণ্ডলের ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্ব। সোমবার বাজিতপুর বাজারে তারা বিক্ষোভ মিছিল দেখায়। স্কুল গেটের সামনে বিজেপি নেতৃত্ব অবস্থান বিক্ষোভ করে। এছাড়াও ওই ছাত্রীদের বিরুদ্ধে তারা কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে স্মারকলিপিও জমা দেয়।
এ ঘটনায় বিজেপির বাগদা ৩ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি নিতাই বিশ্বাস বলেন, 'স্বাধীনতা দিবসের দিন বাজিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শোভাযাত্রায় যে ঘটনাটা ঘটেছে অত্যন্ত নিন্দনীয়, আমরা প্রধান শিক্ষকের কাছে দাবি করেছি যে কোনরকম ধর্মীয় পোশাক পরে স্কুলে আসা যাবে না। যারা স্বাধীনতা দিবসের দিন ধর্মীয় স্লোগান দিয়েছে তাদের চিহ্নিতকরণ করে ব্যবস্থা নিতে হবে।' এঘটনায় তীব্র নিন্দা করে বিজেপি নেতা অমৃতলাল বিশ্বাস বলেন, ‘প্রায় ৭ লক্ষ বিপ্লবীর জীবনের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, দেশের ৮০ তম স্বাধীনতা দিবসের দিন বাজিতপুরের এক সম্প্রদায়ের ছাত্রীরা যে ঘটনা ঘটিয়েছে তা অত্যন্ত ঘৃণ্য। এদের সকলকে স্কুল থেকে টিসি দিতে হবে। যে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে তার মালিককেও ক্ষমা চাইতে হবে।’
এখন এটাই দেখার স্কুল কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেয়!