নিউজ ডেস্ক: পাঠ্যক্রমে বড়সড় রদবদলের সুপারিশ, শ্যামাপ্রসাদের জীবনবৃত্তান্ত অন্তর্ভুক্তি ও মুঘল ইতিহাসের পরিধি ছাঁটাইয়ের পথে রাজ্য। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর মুখেই রাজ্যের সরকারি ও সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলির পাঠ্যবইয়ে একগুচ্ছ তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। প্রাক-প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি পাঠ্যবইয়ের শুরুতে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও অবদানের কথা তুলে ধরার সুপারিশ করেছে স্কুল সিলেবাস পুনর্গঠন সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কমিটি। এর পাশাপাশি পাঠ্যবইয়ে মুঘল সাম্রাজ্যের অধ্যায় সংক্ষেপ করা, নির্দিষ্ট কিছু সাহিত্যকর্ম বদল এবং ভাষাগত কিছু শব্দ সংশোধনের প্রস্তাবও জমা পড়েছে শিক্ষা দফতরে।
গত জুলাই মাসে কল্যাণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি সম্প্রতি তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে। কমিটির মতে, হাতে সময় অত্যন্ত কম। আগামী ২ জানুয়ারির মধ্যে স্কুলগুলিতে নতুন বই পৌঁছে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় সমগ্র পাঠ্যক্রমের আমূল পরিবর্তন না করে প্রয়োজনীয় পরিমার্জন ও সংশোধনের পথেই হাঁটা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মন্তব্য করেছিলেন যে, আধুনিক বাংলা গঠনে তাঁর ভূমিকা, দেশপ্রেম এবং অখণ্ড ভারতের চিন্তাধারা স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সব স্তরেই চর্চিত হওয়া উচিত। পরবর্তীকালে উচ্চশিক্ষা দফতরও এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। কমিটির সুপারিশ অনুসারে, এবার একেবারে প্রাথমিক স্তর থেকেই পড়ুয়াদের তাঁর আদর্শ ও অবদানের সঙ্গে পরিচিত করাতে প্রতিটি বইয়ের প্রারম্ভেই এই অংশটি সংযোজিত হতে চলেছে।
ইতিহাস ও সাহিত্যের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। কমিটির বক্তব্য, মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস ততটুকুই থাকবে যতটুকু একজন পড়ুয়ার সাধারণ ধারণার জন্য আবশ্যক। ভারতের সামগ্রিক ইতিহাস কেবল মুঘলদের বৃত্তে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না বলেই তাদের মত। এছাড়া সাম্যবাদের ইতিহাসকে বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের মধ্যে রেখে বাড়তি কোনো মহিমান্বিত রূপ দেওয়া হবে না বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বাংলা সাহিত্যের পাঠ্যতালিকাতেও পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব এসেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আফ্রিকা' কবিতার বদলে তাঁরই লেখা 'শিবাজী উৎসব' এবং শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের স্থানে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের 'মেবার-পতন' অন্তর্ভুক্তির কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, পাঠ্যপুস্তকের ভাষা ব্যবহারে 'পানি' শব্দের পরিবর্তে কেবল 'জল' ব্যবহারের পাশাপাশি 'আব্বা' বা 'আম্মা'-র মতো অপ্রচলিত ও আঞ্চলিক শব্দবর্জনের পক্ষেই সওয়াল করেছেন কমিটির চেয়ারম্যান।
রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের ক্ষেত্রেও কাঁচি চলার ইঙ্গিত স্পষ্ট। বিগত জমানার সিঙ্গুর জমি আন্দোলন এবং কন্যাশ্রীর মতো প্রকল্প সংক্রান্ত অধ্যায়গুলি পাঠ্য থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
একাংশের মতে, সাম্প্রতিককালে জাতীয় স্তরে এনসিইআরটি-র পাঠ্যক্রম সংকোচন নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, রাজ্যের এই পদক্ষেপ সেই ধারারই সমান্তরাল কি না, তা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিতে পারে।
