নিউজ ডেস্ক: হাতে মাত্র কয়েক দিন। তারপরেই নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন। মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে ভোটের ময়দানে নিজেদের জমি শক্ত করতে জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছে বিজেপি। সেই প্রচারেই দলীয় প্রার্থী শাখারভ সরকারের সমর্থনে সরব হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। রেজিনগরের মানুষ বিজেপির পাশেই থাকবেন বলে আশাপ্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারে নতুন করে গতি আনতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
রেজিনগর কেন্দ্রে উপনির্বাচন ঘিরে একাধিক রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে। ভোটারদের মন জয় করতে বিভিন্ন ইস্যুকে হাতিয়ার করে প্রচার চালাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলি। বিজেপির তরফে শাখারভ সরকারকে সামনে রেখে জনসংযোগে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারীর প্রচারও সেই নির্বাচনী লড়াইয়ে দলের কর্মী-সমর্থকদের উজ্জীবিত করার লক্ষ্যেই বলে মনে করা হচ্ছে।
দিনকয়েক আগে নির্বাচনী প্রচারের মাঝে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছিল। রেজিনগরে প্রচার চলাকালীন গাড়ি থেকে ছোড়া লজেন্স কুড়োতে গিয়ে গুরুতর জখম হয়ে মৃত্যু হল ছয় বছরের শিশু জাসমিনা খাতুনের। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, প্রচার চলাকালীন শিশুদের উদ্দেশে গাড়ি থেকে লজেন্স ছোড়া হচ্ছিল। সেই লজেন্স কুড়োতে গিয়ে হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়ে গিয়ে গুরুতর আঘাত পায় জাসমিনা।
বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদ সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিহত শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সভায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি রেজিনগরে জাসমিনার বাড়িতে পৌঁছন এবং বাবা-মা-সহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিবারের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানার পাশাপাশি তাঁদের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে লড়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে দুই কেন্দ্রে জয়ী হওয়ার পর নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন। ফলে ওই কেন্দ্র বিধায়কশূন্য হয়ে পড়ে। তাই উপনির্বাচনের মাধ্যমে নতুন জনপ্রতিনিধি বেছে নেবেন নন্দীগ্রামবাসী। তবে ওই কেন্দ্রে কাকে প্রার্থী করা হবে, তা নিয়ে রয়েছে জল্পনা। অন্যদিকে, নওদা ও রেজিনগর থেকে জয়ী হয়েছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর। তিনি রেজিনগর আসনটিট ছেড়ে দেন। সেইমতো আগামী ৬ অক্টোবর এই কেন্দ্রেও উপনির্বাচন হবে। ৯ অক্টোবর ফল ঘোষণা। ফলে ভোটের আগে শেষ মুহূর্তের প্রচারকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে বাড়ছে তৎপরতা। রেজিনগরের ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষের উপর আস্থা রাখেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
