হাওড়া, কেয়া মণ্ডল: ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে পাকড়াও পুলিশ অফিসার। গ্রেফতার হাওড়ার ব্যাঁটরা থানার সাব-ইনস্পেক্টর সুব্রত সরকার। অভিযোগ, ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নিতে গিয়ে ধরা পড়ে যান তিনি।এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা পুলিশ মহলে।
জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত পুলিশ ইন্সপেক্টরকে গ্রেফতার করেছে অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো (এসিবি)। ইতিমধ্যে, অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে এসিপি।
সূত্রের খবর, গত ১ অগাস্ট
স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে পণের দাবিতে অত্যাচারের অভিযোগ নিয়ে ব্যাঁটরা থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন এক মহিলা৷ সেই মামলায় সুবিধা করে দেওয়ার নামে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগ ওঠে ব্যাঁটরা থানার SI সুব্রত সরকারের বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীর কাছ থেকে ঘুষ চাওয়ার বিষয়টি এসিবিকে জানানো হয়। এরপর অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ফাঁদ পাতার পরিকল্পনা করেন তদন্তকারীরা। তারপর অভিযোগকারীকে থানায় ডেকে ওই এসআই তাঁর কাছ থেকে নগদ ১৫ হাজার টাকা ঘুষ চান। পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযোগকারীকে নির্দিষ্ট টাকা নিয়ে SI-এর কাছে যেতে বলা হয়।
সোমবার সেই মতো ১৫ হাজার টাকা নিয়ে থানার SI-এর কাছে পৌঁছন অভিযোগকারী। টাকা দেওয়ার সময় আশপাশে ওত পেতে ছিলেন ACB আধিকারিকরা। অভিযোগ, ঘুষের টাকা হাতে তুলে নিতেই সুব্রত সরকারকে হাতেনাতে ধরে ফেলা হয়। এরপর নিয়ম মেনে তাঁর হাত ধোয়া জলের নমুনা-সহ অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয় বলে ACB সূত্রে খবর।
এই ধরনের ট্র্যাপ অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় ফেনলফথ্যালিন টেস্ট। ঘুষের টাকা লেনদেনের সময় অভিযুক্তের হাতে রাসায়নিকের উপস্থিতি শনাক্ত করতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। টাকা স্পর্শ করার পর নির্দিষ্ট রাসায়নিক দ্রবণে হাত ধুলে রঙের পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে সেই সংস্পর্শের প্রমাণ পাওয়া যায়। CBI-সহ বিভিন্ন দুর্নীতি দমনকারী সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে আসছে।
এই ঘুষ নেওয়ার পিছনে অন্য কোনও ব্যক্তি বা পুলিশকর্মীর ভূমিকা রয়েছে কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুরো ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো।