নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে শাস্তিস্বরূপ তাঁর 'বঙ্গবিভূষণ সম্মান' প্রত্যাহার করেছে বর্তমান সরকার। বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে এফআইআর-ও দায়ের করা হয়। অনন্ত জানান, 'আমি অনুতপ্ত। ভবিষ্যতে সতর্ক থাকব।' এই বক্তব্য ইতিবাচক বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসাথে তিনি জানান, ক্ষমার অযোগ্য কাজ করেছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্র রায়,ওরফে অনন্ত মহারাজ।
অনন্ত মহারাজের সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে কু-মন্তব্য এবং ক্ষমাপ্রার্থনা নিয়ে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, ‘একে ইতিবাচক ভাবে দেখা উচিত বলে মনে হয়। উনি ক্ষমার অযোগ্য কাজ করেছেন। তবে উনি একজন বর্ষীয়ান মানুষ। সিনিয়র নাগরিক।’ মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন ‘আইন আইনের পথে চলবে। বিভিন্ন ধারায় এফআইআর করা হয়েছে। পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২৮২টি পোস্ট ডিলিট করা হয়েছে। ওই ফেসবুক অ্যাকাউন্টগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে রাজ্য পুলিশের পদক্ষেপে। মোট ছ’টি এফআইআর হয়েছে।’
নেতাজি সম্পর্কে কোচবিহার ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা অনন্ত রায় যে কুরুচীকর মন্তব্য করেন, তার প্রভাবে বেশ কয়েকদিন ধরেই নানা মহলে সমালোচনা চলছে। এই বিতর্কের মাঝেই সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো-বার্তা দেন অনম্ত। ১৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিয়োর ক্যাপশনে লেখা, ‘নেতাজির প্রতি সম্মান জানিয়ে ভিডিয়োবার্তা’। ওই ভিডিওতে অনন্ত বলেছেন, ‘নেতাজির প্রতি সম্মান জানিয়ে বলছি, নেতাজি সম্পর্কে আমার অনিচ্ছাকৃত কিছু বক্তব্যের জন্য কেউ যদি মানসিক ভাবে কোনও আঘাত পেয়ে থাকেন তার জন্য আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।’
শুক্রবার ভবানীপুর থেকে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘ওঁর বয়স দেখে আমি বলব, উনি কাল মধ্যরাতে যেটা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে করেছেন, সেটাকে ইতিবাচক হিসাবে দেখা উচিত। উনি নিজেও বলেছেন, পরবর্তী মন্তব্যের সময় সতর্ক থাকবেন। সেটা ভাল।’
অপরদিকে, অনন্ত মহারাজের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াতে পদ্মশ্রী সম্মান প্রাপ্ত স্বামী প্রদীপ্তানন্দজি মহারাজ ওরফে কার্তিক মহারাজ একটি মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘কংগ্রেস নেতাজিকে বহিষ্কার করেছিল। বামফ্রন্টও নেতাজিকে অপমান করেছে। আর এখন যাঁরা নেতাজিকে নিয়ে নানা মন্তব্য করছেন, তাঁদের আগে ইতিহাস জানা প্রয়োজন।’ অনন্ত প্রসঙ্গে কার্তিক মহারাজের কটাক্ষ 'অনন্ত মহারাজ কোথাকার কে?’
এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেছেন, ‘কেউ যদি ভুল স্বীকার করেন তা হলে আমি এবং সমাজ ততটাই উদার। ভুল স্বীকার করা বা ক্ষমা চাওয়াকেও সম্মান দেব। এটা কোনও ইগোর লড়াই নয়। আর গ্রেফতার করলেই ভাল, এমনটাও নয়। আমার মনে হয়, ভুল স্বীকার করেছেন। ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। ব্যস মিটে গিয়েছে। সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে এমন কিছু মন্তব্য করা উচিত নয় যা নিয়ে অনাবশ্যক বিতর্ক তৈরি হতে পারে।’