নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেস-এর 'বন্দে মাতরম'-এর সম্পূর্ণ সংস্করণ গাওয়ার বিরোধিতা সাম্প্রতিক সময় বিশেষ চর্চায়। সেই আগুনে আরও ঘি পড়ল। ঘটনাটি ঘটেছে কাশ্মীরের শ্রীনগরে। জম্মু ও কাশ্মীরের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এবং জম্মু ও কাশ্মীর ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ফারুক আবদুল্লাহ। এখানেই বন্দে মাতরম' সম্পূর্ণ সংস্করণ গাওয়ার বিষয়ে কংগ্রেস আপত্তি জানায়। ঘটনাটি আরো দানা বাঁধে, যখন বন্দে মাতরম বাজানো হচ্ছিল তখন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ উঠে দাঁড়ান। কিন্তু কংগ্রেস তাদের সদস্যদের বসে থাকতে বলে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই, দুই রাজনৈতিক জোটসঙ্গী তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতে মুখোমুখি। একই সঙ্গে কংগ্রেসের কাছে গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে বিজেপির তীব্র আক্রমণ। বিজেপি কংগ্রেসকে লক্ষ্য করে, তীব্র রাজনৈতিক ব্যঙ্গ করেই চলেছে।কংগ্রেসকে লক্ষ্য করে এই রাজনৈতিক ব্যঙ্গগুলির অন্যতম মন্তব্য 'মুসলিম লিগ'। আবার অন্যদিকে 'ন্যাশনাল কনফারেন্স' সতর্ক করে দিয়েছে যে, 'জোটসঙ্গীদের ওপর কংগ্রেস কোনো শর্ত বা নির্দেশ চাপিয়ে দিতে পারে না।' সোমবার অর্থাৎ আজ জম্মু ও কাশ্মীরের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সম্পূর্ণ সংস্করণে বন্দে মাতরম বাজানোতে কংগ্রেস আপত্তি তোলে। ওই অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল সম্পূর্ণ বন্দেমাতরম পরিবেশন এর একটি ভিডিয়ো শেয়ার করেন। তিনি ন্যাশনাল কনফারেন্স কে অনুরোধ করেন তারা যেন গানটির সংক্ষিপ্ত সংস্করণ ব্যবহার করেন। এই ব্যাপারে তার বক্তব্য 'আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা ভারতের জন্য যে সমন্বয়বাদী ও বহুত্ববাদী আদর্শের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং লালন করেছিলেন, তার সাথে 'বন্দে মাতরম'-এর সম্পূর্ণ সংস্করণটি খুব একটা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আমাদের কাছে মহাত্মা গান্ধী, পণ্ডিত নেহরু, সর্দার প্যাটেল, সুভাষচন্দ্র বসু, রাজেন্দ্র প্রসাদ, আচার্য নরেন্দ্র দেব, মৌলানা আজাদ, সরোজিনী নাইডু এবং জে বি কৃপালানির সুচিন্তিত মতামত—যা অনেকাংশেই গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শ দ্বারা প্রভাবিত ছিল, তা-ই সর্বপ্রধান।' জোট সংগীতের উদ্দেশ্যে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদকের আহ্বান 'স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রজ্ঞা ও বিচারবুদ্ধিকে সম্মান জানান এবং এই সুন্দর ও ঐতিহাসিক গান-এর যে সংস্করণটি কংগ্রেস গ্রহণ করেছে, তা গাওয়ার ক্ষেত্রে দলের পাশে দাঁড়ান।'
এই বক্তব্যের বিরুদ্ধেই গর্জে ওঠে ন্যাশনাল কনফারেন্স। তারা স্পষ্ট ভাষায় জানায় 'জোটসঙ্গী হিসেবে কংগ্রেস তাদের ওপর কোনো শর্ত চাপিয়ে দিতে পারে না।' এই প্রসঙ্গে ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা বসির আহমেদ মন্তব্য করেন- 'জোটসঙ্গী হিসেবে আপনারা ঠিক করে দিতে পারেন না যে গান গাওয়া হবে কি না, বা কতটা গাওয়া হবে। ভেনুগোপালের টুইট করার অধিকার আছে, কিন্তু তিনি কোনো কিছু চাপিয়ে দিতে পারেন না। সিদ্ধান্তটি জনগণের। আমরা জনগণের ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়ার বিরোধী।' ন্যাশনাল কনফারেন্সের এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে কংগ্রেস পাল্টা আঘাত জবাব দেয়। আরএসএস-এর (RSS) 'নাগপুর ফরমান'র কাছে মাথা নত করেছে ন্যাশনাল কনফারেন্স, এমনটাই পরোক্ষে বলে দেয়। এই সংঘাত নিয়ে বিজেপির সাংসদ তথা মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদীর কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্য- 'দলের আপত্তি প্রমাণ করে যে তারা একবিংশ শতাব্দীর মুসলিম লিগে পরিণত হয়েছে। এই ইস্যুতে কংগ্রেস সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ থেকেই স্পষ্ট যে মানসিকতার দিক থেকে নকশাল কংগ্রেস এখন মুসলিম লিগ কংগ্রেসে রূপান্তরিত হয়েছে এবং মৌলবাদী শক্তির কাছে পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করেছে।'
প্রসঙ্গত, গত মাসে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি (CWC) 'বন্দে মাতরম' বাজানোর ক্ষেত্রে, কংগ্রেস ১৯৩৭ সাল থেকে চলা সিদ্ধান্ত মানবে ঠিক করে। সেই সিদ্ধান্তেই বলা হয়- এখন থেকে কংগ্রেসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বন্দেমাতরম কেবল দুটি স্তবক গাওয়া হবে। আর তাই এই বিতর্ক-যা জোট সঙ্গীদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার ক্ষেত্রেও,প্রশ্নচিহ্ন তুলছে! তা নিয়ে ভাবনাচিন্তার সময় এসেছে কংগ্রেসের।