কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: রোজকার মতো টহল দিচ্ছিল বন দফতর। হঠাৎ নজরে আসে এক অস্বাভাবিক দৃশ্য। ওড়িশার বালেশ্বর জেলার উদয়পুর-তালসারি এলাকার একটি কাজুবাদামের বাগানে ঘোরাফেরা করছে পাঁচটি শিশু ওরাংওটাং। ভারতের মাটিতে যে প্রাণীর স্বাভাবিক বিচরণই নয়, সেই প্রাণীকে সংখ্যায় পাঁচটি দেখে চমকে যান বনকর্মীরা। মঙ্গলবার তাদের উদ্ধার করে বন দফতর। প্রাথমিকভাবে আধিকারিকদের অনুমান, কোথাও পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় ওই পাঁচ ওরাংওটাংকে হয়তো জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে ঘটনার।
ওরাংওটাংকে হচ্ছে পৃথিবীর সবথেকে বড় স্তন্যপায়ী প্রাণী। বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, জলেশ্বর রেঞ্জের উদয়পুর সেকশনে টহল দেওয়ার সময়ই ওই পাঁচটি ওরাংওটাংয়ের সন্ধান মেলে। পরে বনকর্মীরা নিরাপদে উদ্ধার করেন তাদের। আঞ্চলিক মুখ্য বন সংরক্ষক (RCCF) প্রকাশচন্দ্র গোগিনেনি জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া পাঁচটির মধ্যে তিনটি পুরুষ এবং দু’টি স্ত্রী। প্রত্যেকটিই শিশু। তবে তাদের শারীরিক অবস্থা এবং কী ভাবে তারা বালেশ্বরের ওই প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: https://x.com/ANI/status/2097464497694969919
ওরাংওটাং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রাণী। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার কিছু নির্দিষ্ট অরণ্যই তাদের স্বাভাবিক বাসস্থান। ভারতে বন্য অবস্থায় এই প্রাণীর দেখা মেলে না। ফলে বালেশ্বরের জঙ্গলে একসঙ্গে পাঁচটি ওরাংওটাংয়ের হদিস পাওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই পাচারের আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। বন দফতরের আধিকারিকদের ধারণা, কোনও চক্র বেআইনি ভাবে ওই প্রাণীগুলিকে ভারতে এনে অন্যত্র পাচারের চেষ্টা করছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
এখন উদ্ধার হওয়া পাঁচ ওরাংওটাংকে কোথায় রাখা হবে এবং তাদের পরবর্তী গন্তব্য কী হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা-সহ প্রয়োজনীয় পরিচর্যার ব্যবস্থা করছে বন দফতর। পাশাপাশি, কী ভাবে তারা ভারতে এল? কারা তাদের এখানে এনেছিল এবং শেষ পর্যন্ত কেন বালেশ্বরের জঙ্গলে ফেলে যাওয়া হল? এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। বনকর্তাদের মতে, তদন্ত এগোলেই পাঁচটি বিরল প্রাণীর এই অদ্ভুত যাত্রাপথের আসল রহস্য সামনে আসবে।