নিউজ ডেস্ক: কাশ্মীর উপত্যকা জুড়ে ফিরে আসছে সেই কুখ্যাত 'রালিভ-গালিভ-চালিভ' স্মৃতি। এই তিন আরবি শব্দের অর্থ 'ধর্মান্তর-মৃত্যুবরণ-পলায়ন।' যা ঘটেছিল ১৯৮৯-১৯৯০ সালে, সমগ্র কাশ্মীর উপত্যকা জুড়ে। ঠিক তেমনটাই আবার ঘটতে চলেছে। হুমকি চিঠিতে প্রাণভয়ে কাঁপছেন 'কাশ্মীরি পন্ডিত' কর্মচারীরা। এই হুমকি চিঠি পাঠিয়েছে লস্কর ই তৈবা-র প্রক্সি সংগঠন ইউএলসি।
ওই হুমকি চিঠিটির সারমর্ম 'পিএম প্যাকেজের আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মচারীদের পদত্যাগ দাবি।' তবে ঘটনাটি চাপা থাকেনি। ইন্টারনেট জুড়েই এই হুমকি চিঠিটির খবর ছড়িয়ে পড়েছে। লস্কর সমর্থিত ওই সংগঠন ‘ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল’ এক মাসে অন্তত পাঁচটি হুমকি চিঠি জারি করেছে।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি সামনে এসেছে। এই ঘটনাটি সামনে এনেছে সাবা কৌল নামের এক সমাজকর্মী। তিনি একে 'বিরাট ও বিপজ্জনক নিরাপত্তা সংকট' বলে আখ্যা দেন। তাঁর দাবি- 'এই হুমকি চিঠিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীরা অবিলম্বে চাকরি ছেড়ে উপত্যকা ছেড়ে চলে যান। অন্যথায় তাঁদের মৃতদেহ নিজ রাজ্যে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।'
এই 'চরম হুমকি চিঠি'র খবর পেতেই নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট মহল। প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের কর্মী সংগঠনের নেতা রাকেশ হান্দু জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের সাইবার ক্রাইম উইংয়ের কাছে চিঠি পাঠান। একইসঙ্গে এই চিঠি যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা-র কাছেও। ওই হুমকি চিঠিতে বলা ছিল 'বডি ব্যাগ' প্রসঙ্গ। যে কারণে নিরাপত্তা দাবি করেছেন রাকেশ হান্দু।
জেনে রাখা ভালো, ২০০৮ এবং ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন পুনর্বাসন প্যাকেজের আওতায় এসেছিলেন প্রায় ৬০০০কাশ্মীরি পন্ডিত। তারা বিগত ১৫ বছর ধরে কাশ্মীর উপত্যকায় সরকারি কর্মরত। তবে এতদিন ধরে তারা দাবি করতেন তাদের থাকার ট্রানজিট ক্যাম্পের পরিকাঠামোর উন্নতি। এবার সেই দাবির সঙ্গে জুড়ে গেল নিরাপত্তার প্রসঙ্গটিও। এই প্রসঙ্গে উঠে আসে, 'রাহুল ভাট হত্যাকান্ড'র ঘটনাটি। তাই, সব মিলিয়ে বলা যায়, 'শান্তি এবং নিরাপত্তা'র খোঁজে রয়েছেন প্রায় ৬০০০ কাশ্মীরি পন্ডিত।