নয়ডা: অর্ডার করেছিলেন অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস। অনলাইনে দাম মিটিয়েছিলেন। কয়েক দিন অপেক্ষার পরে দরজায় হাজির কুরিয়ারের পার্সেল। স্বাভাবিক ভাবেই প্যাকেট হাতে নিয়ে মনে হয়েছিল, এ বার বুঝি কাঙ্ক্ষিত ডিভাইসটি হাতে এল। কিন্তু প্যাকেট খুলতেই বদলে গেল গোটা ছবিটা। ভিতরে নেই কোনও অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস। বরং প্যাকেট খুলতেই বেরিয়ে এল গোবর! গ্রেটার নয়ডার দনকৌর এলাকায় অনলাইন কেনাকাটাকে ঘিরে এমনই অদ্ভুত প্রতারণার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অভিযোগকারী আকাশ নাগর নামে ওই যুবকের দাবি, কাজের প্রয়োজনেই অনলাইনে একটি অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস অর্ডার করেছিলেন তিনি। অর্ডার করার সময়ই অনলাইনে টাকা দিয়ে দেন। তার পরে নির্দিষ্ট সময়ের অপেক্ষা। সোমবার বিকেল নাগাদ বাড়িতে পৌঁছয় পার্সেল। বাইরে থেকে প্যাকেট দেখে সন্দেহ করার মতো কিছুই ছিল না। কিন্তু প্যাকেট খোলার পরেই চক্ষু চড়কগাছ। ডিভাইসের বদলে প্যাকেটের ভিতরে গোবর!
সূত্র: https://x.com/Wallahhabebe/status/2097343438786363844
প্রথমে নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারেননি আকাশ। যে জিনিসটির জন্য টাকা দিয়েছিলেন, সেটির বদলে এমন ‘উপহার’ আসবে, তা কে-ই বা ভাবতে পারেন! ক্ষোভে এবং বিস্ময়ে এর পরেই পুলিশের দ্বারস্থ হন তিনি। সাইবার ক্রাইম পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে প্রতারণার তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ওই যুবক।
ঘটনাটি সামনে আসতেই স্বাভাবিক ভাবেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। অনলাইনে অর্ডার নেওয়ার সময়ই কি প্রতারণার পরিকল্পনা ছিল? নাকি অর্ডার করা পণ্যটি কোনও একটি পর্যায়ে বদলে দেওয়া হয়েছে? প্যাকেটটি কোথা থেকে পাঠানো হয়েছিল, কে সেটি প্যাক করেছিলেন, কোন কুরিয়ার সংস্থার মাধ্যমে তা পৌঁছল—এখন তদন্তকারীদের নজর সেই গোটা চেনের উপর।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগ পাওয়ার পরে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনলাইন অর্ডারের তথ্য, পেমেন্টের রেকর্ড, বিক্রেতার বিবরণ এবং ডেলিভারি সংক্রান্ত তথ্য পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। প্রতারণার সঙ্গে কারা জড়িত, সেটিই এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য।
তবে এই ঘটনা শুধু একজন ক্রেতার দুর্ভোগের গল্প নয়। অনলাইন কেনাকাটার জনপ্রিয়তা যত বাড়ছে, ততই সামনে আসছে নানা ধরনের প্রতারণার অভিযোগ। কখনও দামি মোবাইলের বদলে আসে কম দামের সামগ্রী, কখনও খালি বাক্স, আবার কখনও অর্ডার করা পণ্যের বদলে অন্য কোনও জিনিস। গ্রেটার নয়ডার ঘটনায় সেই তালিকাতেই যোগ হল আরও এক অবিশ্বাস্য অভিযোগ—অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের বদলে গোবর!
এখানেই শেষ নয়। অনলাইন কেনাকাটায় ‘সস্তায় ভাল জিনিস’-এর লোভ অনেক সময় ক্রেতাকে নিয়ে যায় অচেনা ওয়েবসাইট বা অজানা বিক্রেতার কাছে। সেখানে পেমেন্ট করার পরে সমস্যায় পড়লে টাকা ফেরত পাওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ফলে অর্ডার করার আগে বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা, পণ্যের রিভিউ, রিটার্ন ও রিফান্ড নীতি যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়। দামি ইলেকট্রনিক পণ্য হলে ‘আনবক্সিং ভিডিয়ো’ করে রাখাও পরবর্তী অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমাণ হিসাবে কাজে আসতে পারে।
আকাশের ক্ষেত্রেও এখন সেই প্রশ্নই গুরুত্বপূর্ণ—অর্ডার করা ডিভাইসটি গেল কোথায়? আর তাঁর হাতে পৌঁছলই বা কী ভাবে গোবরভর্তি প্যাকেট?
উত্তর খুঁজছে পুলিশ। আর গ্রেটার নয়ডার এই ‘গোবর-কাণ্ড’ আপাতত ফের মনে করিয়ে দিল—অনলাইনে অর্ডার করলেই যে পার্সেলের ভিতরে অর্ডার করা জিনিসটাই থাকবে, তার নিশ্চয়তা কোথায়?