মধ্যপ্রদেশ, নিউজ ডেস্ক: উজ্জয়িনী- ভারতের স্থাপত্য এবং পৌরাণিক কাহিনীর আঁতুরঘরগুলির অন্যতম। তবে, সেই উজ্জয়িনী এই মুহূর্তে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার ফলে সরগরম। এবং এই ঘটনাটি ঘটেছে অলৌকিকত্ব তথা বিজ্ঞানের চিরাচরিত দ্বন্দ্ব ঘিরে। ঘটনাটি জানা যাক।
২০২৮ সালে উজ্জয়নীর খাড়েতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে 'সিংহস্থা উৎসব'। তার আগেই মন্দির সংস্কারের জন্য কাজ করা হচ্ছিল। মন্দিরটি ঐতিহাসিক,১৭০বছরের পুরোনো 'খাড়ে হনুমান মন্দির'। প্রথমদিকেওই মন্দিরটি ভেঙে ফেলা হয়েছিল। এরপর মন্দিরের বিগ্রহটি স্থানান্তরের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও বিগ্রহটি স্থানচ্যুত হয়নি। এখানেই উঠে আসছে আধুনিক বিজ্ঞানের সমস্ত রকম কৌশল বনাম ভক্তদের অলৌকিকত্বের দাবি।
সূত্র: https://x.com/thenewsdrill/status/2097199434845278593
এই মন্দিরটি অবস্থিত কাঁঠালচৌরাহা এবং ছত্রীচকের মাঝখানে। ২০১৮ সালে এই অঞ্চলেই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সিংহস্থা উৎসব। উজ্জয়নীর খাড়ে এলাকাতে এটি একটি বিশেষ আকর্ষণীয় পূজা, উৎসব তথা মিলন মেলা প্রাঙ্গণ। এ কারণেই বিপুল সংখ্যক তীর্থযাত্রীর আগমনকে সুগম করতে ওই রাস্তাটি চওড়া করার চেষ্টা করছিল কর্তৃপক্ষ। যানজট থেকে বাঁচার জন্য ওই রাস্তাটিকে নয় থেকে ১৫ মিটার বাড়ানো চেষ্টা করেছিল তাঁরা। আর ওই দুই রাস্তার মাঝখানে ওই মন্দিরটি থাকায়,মন্দিরটি ভেঙে ফেলে কর্তৃপক্ষ এবং মূর্তিটিকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে যেমনটা বলা হয়েছে- 'বহু প্রচেষ্টাতেও মূর্তিটি সরেনি।'
সূত্র মারফত খবর, কর্তৃপক্ষর এই দুদিন ধরে চালানো অভিযানে ক্রেন ও জেসিবি যন্ত্রপাতির সহ প্রচুর ভারী সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সেই যন্ত্রপাতিগুলিও ব্যর্থ হয়ে যায়। বারবার শক্তি প্রয়োগ প্রতিমাটির ক্ষতি করবে। এটি জনগণের কাছে অন্য বার্তা বহন করবে-এই ভেবে কর্তৃপক্ষ কাজ বন্ধ করে দেয়। তবে কর্তৃপক্ষর মূল লক্ষ্য ছিল ওই মন্দিরের কাঠামোর নিচের এলাকা স্ক্যান করে তার গঠনগত বৈশিষ্ট্য বোঝা। এ কারণেই তারা দেড় ফিট নিচে পর্যন্ত খনন করেছিল।
এই ঘটনায় ওই মন্দিরের পুরোহিত মহেশ বৈরাগী মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন- 'বারবার ব্যর্থতাকে এই ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে যে, দেবতা এই স্থান ত্যাগ করতে চান না। যদি শেষ পর্যন্ত প্রতিমাটি স্থানান্তর করতেই হয়, তবে তা নিরাপদে এবং এর রূপ পরিবর্তন না করে করা উচিত।' এছাড়াও ভক্তরা এই ঘটনাটিকে আদি দৈবীক ঘটনা হিসেবে মেনে নিচ্ছেন এবং তারা এই ঘটনাটির সম্বন্ধে গুনগান প্রকাশ করেছেন এবং আনন্দ করছেন। একইসঙ্গে ঘটনাটিতে আরেকটি নতুন মোড় এসেছে। দেখা গিয়েছে যে, ওই মন্দিরের সামনেই বেশ কিছু বাঁদর এসে আস্তানা গেড়েছে। ভক্তরা জানিয়েছেন যে, এই ঘটনা থেকে তারাও প্রমাণ পেয়েছেন- এই স্থান থেকে এই মূর্তিটিকে সরানো অসম্ভব।