কলকাতা, অঙ্কন দাস: তিনি যেখানেই যান, বিতর্ক তাঁকে যেন সঙ্গ দেয়। তিনি দিলীপ ঘোষ। প্রাক্তন সাংসদ তথা, বর্তমানে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী। তাও থামেনি তার বিতর্কিত এবং বিস্ফোরক মন্তব্য। বুধবার নিউ টাউনের ইকো পার্কে মনিং ওয়াকে বেরিয়ে ফের একাধিক ইস্যুতে সরব হলেন তিনি।
সম্প্রতি মসজিদ থেকে মাইক খোলার মামলা খারিজ হয়েছে হাইকোর্টে। এই বিষয়ে চলছে চাপানউতোর। এই বিষয়ে পঞ্চায়েত মন্ত্রীর বক্তব্য,'বহু মসজিদ থেকে মাইক নামিয়ে নিয়েছে। অনেকেই নামিয়ে নিয়েছে। বিভিন্ন মন্দিরেও যে আওয়াজ হতো, তাও নির্দিষ্ট সময় বেঁধে ততটুকুই হচ্ছে। সরকার নীতিগত ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিনা কারণে শব্দদূষণ নয়। সবাই মেনে নিয়েছে। কোথাও অধিকার দেওয়া হয়নি কাউকে মাইক বাজাবার। কোন মসজিদে পুলিশের সাথে কথা বলে অনুমতি নিয়ে করা হয়েছে? তারপর কেউ কোর্টে গেলে স্বাভাবিক , সেতো হারবেই। সরকারকে চ্যালেঞ্জ করা, যারা করছে ঠিক করছে না।'
দুর্নীতি এবং তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের অনৈতিকতা প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য 'দুর্নীতি কোথাও থেমে নেই। পশ্চিমবঙ্গে বাতাস যতদূর পৌঁছয়, সেখানে দুর্নীতি আছে। আর সমস্যা শুরু হয়েছে পুলিশ থেকে, পুলিশ সবথেকে বেশি করাপ্ট হয়েছে। করা হয়েছে। পুলিশ এর কাজ ছিল টাকা তুলে দেওয়া। সরকার কাউকে ছাড়বেনা।' এই বার্তা আসলে রাজ্যের সেই সব প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং কর্মীদের উদ্দেশে, যারা এই মুহূর্তেও অন্যায় এবং দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন।
'কোর্ট যেমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেমন চলবে। আদালতে যখন কেস গেছে, আদালত যেমন ঠিক করবে তেমন হবে। কিন্তু স্পিকারের ক্ষমতা আছে, বিধানসভায় তিনি ডিসিশন নিতে পারেন। অনেক তথ্য তার কাছেও আছে। সব তথ্য এক্সপোজ করাও হয়না। অনেক কিছুই গোপন থাকে, সেই অধিকার স্পিকারের আছে। বাকিটা বিচার্য।' আপাতত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা থাকছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই। মঙ্গলবার বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি মামলায় স্পিকারের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। সেই প্রসঙ্গেই এই কথাগুলো বলেছেন দিলীপ ঘোষ।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ওই মামলা বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের সিঙ্গল বেঞ্চেই ফেরত পাঠান বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ।ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, 'ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করা স্পিকারের সিদ্ধান্ত সঠিক কিনা, তা আগামী দু'মাসের মধ্যে শুনানি করে নির্দেশ দেবেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের সিঙ্গল বেঞ্চ।' সেক্ষেত্রে,সিঙ্গল বেঞ্চের চূড়ান্ত নির্দেশ না পেলে, স্পিকারের এই সিদ্ধান্ত অস্থায়ী সিদ্ধান্ত হিসেবেই গণ্য হবে, এমনটাই জানিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।