নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতির সিলমোহর পেতেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পথে গুজরাট। রাজনীতি বনাম অধিকারের টানাপোড়েন চরমে। উত্তরাখণ্ডের পর এবার ভারতের দ্বিতীয় রাজ্য হিসেবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছাল গুজরাট। রাজ্য বিধানসভায় বিলটি পাশ হওয়ার পর সম্প্রতি তাতে সম্মতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই বিধিমালার রূপরেখা ঘোষণা করবে ভূপেন্দ্র প্যাটেল সরকার, আর তা জারি হলেই রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে এই বিতর্কিত আইন।
গত মার্চ মাসে টানা সাড়ে সাত ঘণ্টার উত্তপ্ত বিতর্কের পর গুজরাট বিধানসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হয়েছিল এই বিল। ভোটাভুটির আগেই কংগ্রেস বিধায়করা বিলটি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবিতে ওয়াকআউট করেন। নতুন এই আইনের আওতায় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমস্ত নাগরিকের জন্য বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি একক আইনি কাঠামো বলবৎ হতে চলেছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তরাখণ্ড প্রথম রাজ্য হিসেবে ইউসিসি কার্যকর করেছিল,গুজরাট এখন সেই পথেই দ্বিতীয় পদক্ষেপটি ফেলল।
মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন, আইনটি গুজরাটের প্রতিটি নারী ও কন্যার সুরক্ষার স্বার্থে আনা হয়েছে। তাঁর কথায়, “২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে এটি এক বড় পদক্ষেপ। এতে কারও ধর্মীয় স্বাধীনতা বা অধিকার খর্ব হচ্ছে না, সব সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করা হচ্ছে।”
তবে সরকারের এই যুক্তির উল্টো দিকে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ক্ষোভ। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এবং সরকারবিরোধী ক্ষোভ সামাল দিতেই এই বিল দ্রুত পাশ করানো হয়েছে। কংগ্রেস বিধায়ক ইমরান খেদাওয়ালা সরাসরি অভিযোগ তুলে জানান, এই আইন মুসলিম সমাজের ভাবাবেগ এবং কোরান-শরিয়ত বিরোধী। তাঁর প্রশ্ন, সরকার যদি সত্যিই সংখ্যালঘু মহিলাদের অধিকার নিয়ে ভাবত, তবে বিলকিস বানোর ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের প্রশ্নে এবং তাঁর দোষীদের সংবর্ধনা জানানোর ঘটনায় কেন নীরব রইল?
অন্যদিকে, আম আদমি পার্টির বিধায়ক চতর ভাসাভে অভিযোগ করেছেন, আদিবাসী সমাজের অবস্থান নিয়ে এই আইনে কোনও স্বচ্ছতা নেই। বিশেষত আদিবাসী মহিলারা ভিন্ন সম্প্রদায়ে বিয়ে করলে তাঁদের ক্ষেত্রে কী নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তা স্পষ্ট করেনি প্রশাসন।