পুরুলিয়া, নিউজ ডেস্ক: সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পরও থামেনি দেশসেবার ইচ্ছা। এবার লড়াইটা তরুণ-তরুণীদের ভবিষ্যতের জন্য। তরুণ প্রজন্মকে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করে চলেছেন প্রাক্তন সেনাকর্মী অনুপ কুমার মাহাতো। তাঁর উদ্যোগে ২০১৯ সালে পুরুলিয়ায় গড়ে ওঠে ‘এম ফিজিক্যাল অ্যাকাডেমি’। গত কয়েক বছরে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে একাধিক যুবক-যুবতী সেনা, নৌসেনা, পুলিশ, এসএসবি এবং অগ্নিবীরের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরি পেয়েছেন।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে নিয়োগ পেয়েছেন আরও ৩৮ জন প্রশিক্ষণার্থী। তাঁদের মধ্যে ২৫ জন যুবক এবং ১৩ জন যুবতী। চাকরি পাওয়া তরুণ-তরুণীদের তালিকায় রয়েছেন জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়েরাও। প্রশিক্ষণার্থীদের দাবি, শারীরিক সক্ষমতা থেকে শুরু করে নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে অনুপ কুমার মাহাতোর প্রশিক্ষণ তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। সবদিক থেকে পিছিয়ে পড়া ছেলে, মেয়েদের চাকরির দিশা দেখাতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন প্রাক্তন সেনাকর্মী অনুপ।
আট বছর আগে তিনি শুরু হয় ফিজিক্যাল ট্রেনিং দেওয়ার কাজ। ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে ১৮৮ জনেরও বেশি তরুণ-তরুণী বিভিন্ন সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীতে আর্মি, নেভি, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, এস এস বি, অগ্নিবীর মতো চাকরি পেয়েছেন। আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের বহু তরুণ-তরুণীও এই সুযোগ পেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
আজ অর্থাৎ শনিবার পুরুলিয়ার জে কে কলেজের অডিটোরিয়ামে সদ্য চাকরি পাওয়া যুবক-যুবতীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে তাঁদের চাকরি জীবনে সততা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দেন অনুপ কুমার মাহাতো। তিনি জানান, 'অবসর নেওয়ার পর যে কাজ শুরু করেছিলেন, ভবিষ্যতেও সেই উদ্যোগ চালিয়ে যেতে চান। আরও বেশি সংখ্যক তরুণ-তরুণীকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য তৈরি করাই তাঁর লক্ষ্য।' নতুন চাকরিপ্রাপকরাও প্রশিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁদের বক্তব্য, 'অনুপ কুমার মাহাতোর নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও উৎসাহের কারণেই কঠিন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সফল হতে পেরেছেন তাঁরা।'
পুরুলিয়ার কেতিকার প্রত্যন্ত গ্রামের কৃষক পরিবারের ছেলে অনুপ। দারিদ্রকে সঙ্গী করেই কেটেছে ছেলেবেলা ৷ এই অভাবই ছোটবেলায় তাঁর লক্ষ্য স্থির করে দিয়েছিল ৷ দেশের সেবা করেছেন দীর্ঘ ১৬ বছর। সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পরই, ঠিক করেছিলেন সমাজে পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়ানোর কথা। যেমন ভাবনা তেমন কাজ, সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পরও থামেনি তাঁর সেবার সংকল্প ৷
