নিউজ ডেস্ক: গাছের গায়ে হঠাৎ করে ফুটে উঠেছে অদ্ভুত এক অবয়ব। প্রথম দেখায় মনে হচ্ছে যেন কারও মুখচ্ছবি। বিষয়টি ঘিরে এলাকায় ছড়িয়েছে নানা জল্পনা। কেউ বলছেন এ যেন প্রকৃতির এক অদ্ভুত খেলা। আবার কারও কারও চোখে সেটি দেবাদিদেব মহাদেবের উপস্থিতির ইঙ্গিত। শরতের উৎসবের আবহে এই রহস্যময় ঘটনাকে ঘিরে ধীরে ধীরে বাড়ছে সাধারণ মানুষের কৌতুহল। সেই কৌতুহল থেকে ভিড়, আর ভিড় থেকে শুরু হল নানা দাবি ও জল্পনা।
ঘটনাটি জলপাইগুড়ি জেলার ধুপগুড়ি ব্লকের চরাচরা বাড়ি এলাকার। স্থানীয় বাসিন্দা ঘনশ্যাম রায়ের বাড়িতে রয়েছে একটি প্রাচীন শিমুল গাছ। সম্প্রতি, স্থানীয় কয়েকজনের নজরে আসে, গাছের উঁচু অংশে গাছের ছালের মধ্যে ফুটে উঠেছে একটি অদ্ভুত অবয়ব। দূর থেকে দেখলেও অবয়বটি চোখে পড়ছে সবার। আর একটু কাছ থেকে দেখলে অনেকেরই মনে হচ্ছে সেটি যেন স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদেবের মুখমণ্ডলের আদল। এরপরই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এই খবর। শারদীয়ার প্রাক্কালে এমন একটি দৃশ্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহল আরও বেড়ে যায়। ধীরে ধীরে ঘনশ্যাম রায়ের বাড়ির কাছে জমতে শুরু করে মানুষের ভিড়। শুধুমাত্র স্থানীয়রাই নন, আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষজন সেখানে আসছেন বলে জানা গিয়েছে। কেউ গাছটির সামনে দাঁড়িয়ে প্রণাম করছেন, কেউ আবার ফুল দিয়ে পুজো দিচ্ছেন। সেইসঙ্গে অনেকেই নিজেদের মোবাইল ফোনে সেই অবয়বের ছবি তুলে রাখছেন।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, প্রথম দিকে অবয়বটি তুলনামূলক অস্পষ্ট ছিল। তাঁদের দাবি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি নাকি আরও বড় ও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সেই কারণেই তাঁদের বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে। অনেকেই এটিকে অলৌকিক ঘটনা বলে মনে করেছেন এবং দেবাদিদেব মহাদেবের সঙ্গে এর যোগসূত্র রয়েছে বলে বিশ্বাস করেছেন। তবে, এই একই ঘটনাই রয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাখ্যাও। বিজ্ঞানমনস্কদের একাংশের মতে, গাছের বয়স এবং প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফলে এমন আকৃতি তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে গাছের ছাল উঠে গিয়ে সেখানে শুকনো অংশ বা নিঃসৃত রস জমে এমন কোনও অবয়ব তৈরি হওয়া অসম্ভব কিছু নয় বলে মনে করেছেন তাঁরা। আবার কীটপতঙ্গদের কার্যকলাপের কারণেও গাছের গায়ে দাগ বা অস্বাভাবিক আকৃতি হতে পারে।
এদিকে, বাড়ির মালিক ঘনশ্যাম রায়ের দাবি, এই অবয়বটি কোনও মানুষের তৈরি নয়। এটি গাছের গায়ে নিজের থেকেই তৈরি হয়েছে। তবে, এর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি। জলপাইগুড়ি সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাবের সম্পাদক রাজা রাউত জানিয়েছেন, ঘটনাটি প্রাকৃতিক কারণেও হতে পারে, আবার কোনও মানুষের তৈরির সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে। তাঁদের পর্যবেক্ষণের পরই জানা যাবে, গাছের গায়ে তৈরি হওয়া এই আশ্চর্যজনক অবয়বের আসল রহস্য কি।
