কলকাতা,নিউজ ডেস্ক: সংবাদপত্রের ভাষা প্রয়োগের জন্য অভিযোগ করা হলো আনন্দবাজার পত্রিকার দুই সম্পাদক ঈশানী দত্ত রায় এবং সোমা মুখার্জির নামে। গত ২১শে আগস্ট 'আনন্দবাজার পত্রিকা'য় একটি শিরোনাম ছিল 'গেরুয়া গুন্ডামি।' সেই শব্দবন্ধ'র সূত্র ধরেই এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগকারী হিসেবে সঞ্জয় শাস্ত্রী মহারাজ'র নাম মেলে। তিনি চিঠিতে নিজেকে একজন গেরুয়া পরিহিত হিন্দু সন্ন্যাসী বলেছেন। তিনি বলেন যে, 'গেরুয়া একটি ধর্মীয় প্রতীক,রাজনৈতিক নয়। যা ত্যাগ,আত্মত্যাগ এবং সনাতন ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত। এর সঙ্গে গুণ্ডামি শব্দটি যুক্ত করা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠন বা মতাদর্শের সমালোচনার ঊর্ধ্বে চলে গেছে। এটি কোটি কোটি হিন্দুর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।
ওই দুই সম্পাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। প্রমাণ হিসেবে প্রতিবেদনের একটি কপি এবং শিরোনামসহ একটি প্রিন্টআউট দেওয়া হয়েছে। তবে ওই অভিযোগে কোনো নির্দিষ্ট ধারার উল্লেখ করা হয়নি। ওই অভিযোগপত্রে 'আইনের প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী' একটি এফআইআর দায়ের করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
জেনে রাখা ভালো, এই ধরনের অভিযোগ সাধারণত 'ভারতীয় ন্যায় সংহিতা'র ২৯৯ ধারার অধীন। এই ধারাটি 'ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার উদ্দেশ্যে করা ইচ্ছাকৃত কাজ'কে দোষী সাব্যস্ত করে। এছাড়াও এই জাতীয় অভিযোগ কখনও কখনও ১৯৬ ধারার অধীনেও আনা হয়। এই ধারাটি 'বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা উস্কে দেওয়া'র বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।
এই দুই ধারাতেই একবার মামলা দায়ের হয়ে গেলে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ ছাড়াই অগ্রসর হতে পারে। একারনেই এখন দেখার বিষয়, ঘটনাটি কোন দিকে এগোচ্ছে?