মামলাটা পুরনো, প্রায় চার দশকের, স্পষ্টকরে বললে ৩৬ বছর। ১৯৯০ সালে শুরু হয়েছিল, আর কাল তা শেষ হল! অভিযোগের তীর ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর দিকেও। প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে নাম ওঠে হিন্দুজা ব্রাদার্স( শ্রীচাঁদ পি হিন্দুজা এবং গোপীচাঁদ পি হিন্দুজা) এবং বফর্স এজেন্ট উইন চাড্ডা'র। ঘটনার পনের বছর পর, ২০০১ সালে মামলা চলাকালীন মারা যান উইন চাড্ডা। ভারতের সবথেকে আলোড়ন ফেলে দেওয়া মামলাগুলোর অন্যতম বফর্স মামলা।
সেই মামলা অবশেষে খারিজ হয়ে গেল বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা ও বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বিচারাধীন বেঞ্চে। এই মামলাটিতে নতুন করে আর্জি জানান। অজয় কে আগরওয়াল। যদিও সেই আবেদন গ্রাহ্য হয়নি। ওই দুই বিচারপতি জানিয়ে দেন এই মামলা আর চালানো সম্ভব নয়।২০০৫ সালের ৩১ মে এক দিল্লি হাই কোর্ট শ্রীচাঁদ,গোপীচাঁদ এবং প্রকাশ হিন্দুজা তথা এবি বোফোর্সকে সমস্ত ফৌজদারি অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়। আদালত রাষ্ট্রের তরফের সাক্ষ্য-প্রমাণে ঘাটতি দেখেছিল।
উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালের ১৮ই মার্চ সুইস অস্ত্র কোম্পানি বফর্স ১৪৩৭ কোটি টাকার চুক্তি করেছিল। এর ফলে তারা ভারতকে চারশোটি '155 MM হাউইৎজার গান' দিয়েছিল। এর ঠিক চারবছর পরে এই বেচাকেনা ঘিরে,আর্থিক তছরুপ এবং দুর্নীতির দায়ে নাম জড়িয়ে যায় তৎকালীন অভিযুক্তদের। মামলাটি দীর্ঘায়িত হয়। এরমধ্যেই বফর্সের গুনমান দেখে সবার সন্দেহ ঘুচে যায়। ২০০৫ সালে সিবিআইয়ের তোলা অভিযোগ খারিজ করেন প্রাক্তন বিচারক আর এস সোধি। কিন্ত, আবার মামলার মোড় ঘোরে ২০১৮ সালে। এবার সিবিআই এই মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে। সেই মামলার যবনিকা পড়ল কাল বৃহস্পতিবার ৬ই আগস্ট, ২০২৬-এ।