মানকাচর, নিউজ ডেস্ক: কবর দেওয়ার পরও যেন শেষ হয়নি এক তরুণীর মৃত্যু কাহিনী। মৃত্যুর কয়েক দিন পর ফের খুলতে হলো সেই কবর। অন্ধকারে থাকা একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এবার মাটির নিচের থেকে তুলে আনা হলো মৃতদেহ। ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ সালমারা-মানকাচর জেলায়।
মানকাচরের হাটসিঙ্গিমারিতে কবর খুলে তোলা হল ২২ বছরের গর্ভবতী খালিদা নেহাররের মৃত দেহ। দক্ষিণ সালমারা-মানকাচরের চর কাছারিপাড়া গোরস্থান থেকে দেহটি তোলা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তা ধুবড়িতে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের তদন্তের পাশাপাশি এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে আছে মৃতার পরিবারেরা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর গর্ভবতী অবস্থায় খালিদা নেহারকে হাটশিঙিমারি জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি করার পর দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর চিকিৎসায় কোনও তৎপরতা দেখা যায়নি। প্রায় ৯ ঘন্টা অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে ফেলে রাখা হয়েছিল বলে দাবি পরিবারের।
এরপর তাঁর অবস্থার অবনতি হলে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় হঠাৎ তীব্র রক্তক্ষরণ হয়। সেই সময় দ্রুত রক্তের প্রয়োজন হলেও হাসপাতাল থেকে সময় মত রক্তের ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয় ২২ বছরের ওই গর্ভবতী মহিলার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন পরিবারের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে চিকিৎসার গাফিলতির বিষয়টি।
পাশাপাশি হাটশিঙিমারির মতো একটি জেলা হাসপাতালে এখনও নিজস্ব ব্লাড ব্যাঙ্ক না থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জরুরী পরিস্থিতিতে রক্তের প্রয়োজন হলে রোগী চিকিৎসা কতটা ব্যাহত হতে পারে, খালিদার এই মর্মান্তিক ঘটনায় সেই বিষয়টি সামনে এসেছে।
ইতিমধ্যেই তরুনীর মৃত্যুর পর চিকিৎসার গাফিলতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে দক্ষিণ সালমারা-মানকাচর জেলা প্রশাসন। পরিবারের অভিযোগের পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, কবর থেকে দেহ তুলে ময়নাতদন্তের জন্য এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
২২ বছরের এক তরুণী ও তাঁর অনাগত সন্তানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। চিকিৎসার গাফিলতি, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ নাকি অন্য কোনও শারীরিক জটিলতা, ময়না তদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এখন, সেই রিপোর্টের অপেক্ষায় পরিবার এবং প্রশাসন।




