বয়স বাড়তেই শরীরে নানান পরিবর্তন আসতে শুরু করে। কমে যায় পেশির শক্তি, হাড় দুর্বল হয়ে যায়, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা এবং শরীরের ভারসাম্য নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়। তবে এই বয়সে হঠাৎ পড়ে যাওয়া সবচেয়ে বেশি ভয়ের। পড়ে গেলে মাথায় চোট লাগতে পারে, হৃদরোগে কেউ আক্রান্ত হতে পারেন, আবার হাত, পা বা কোমরের হাড় ভাঙ্গার সম্ভাবনাও অনেকটা থাকে।
পরিচালক রাজা সেন বাড়িতে পড়ে গিয়ে কোমরে চোট পেয়েছিলেন আর তারপরে শারীরিক অবস্থার অবনতির ঘটনা যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে প্রবীনদের পড়ে যাওয়া নিয়ে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। সামান্য সাবধানতা অবলম্বন করলেই বিপদ এড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন অনেকেই।
চিকিৎসকদের মতে, বয়স বাড়লে মস্তিষ্কের স্নায়ুগুলি ঠিকঠাক কাজ করে না। ফলে হাঁটাচলা বা ওঠা বসার সময় বয়স্ক মানুষ হঠাৎ করে শরীরের ভারসাম্য হারাতে পারেন। ফলে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পাশাপাশি হঠাৎ করে উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘোরা, বিশ্রামের সময়ও বুক ধড়ফড় করা, হজমের সমস্যা, রক্তচাপের ওঠা পড়া এসবই স্নায়ু অসঙ্গতির কারণে হতে পারে।
যদি কোন প্রবীণ ব্যক্তির রক্তচাপের সমস্যা থাকে তাহলে রাস্তায় বেরিয়ে হাঁটা চলার সময় বা শৌচাগারে যাওয়ার সময় তাকে সতর্ক হতে হবে আবার যদি কারোর হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকে তাদেরও পড়ে যাওয়া প্রবণতা অনেকটাই বেশি থাকে।
সে ক্ষেত্রে বাথরুম বা ঘরের মেঝেতে যেন জল পড়ে না থাকে সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে। বয়স্করা যে বাথরুম ব্যবহার করছে সেখানে অ্যান্টি স্কিড ম্যাট ব্যবহার করুন। প্রস্রাব করার সময় মাথা ঘুরে যাওয়া প্রবণতা বয়স্কদের থাকে। তাই শৌচাগারে প্রবীণরা যাতে কিছু ধরে দাঁড়াতে বা বসতে পারেন সেই ব্যবস্থা রাখুন।
এমনকি বাথরুমে সেন্সর লাইট সিস্টেমের ব্যবস্থা করতে পারেন, যাতে দরজা খুললেই আলো জ্বলে ওঠে। বয়স্কদের শোয়ার ঘরে বিছানার সঙ্গেই বেড সুইচ রাখুন। হাঁটার পথে বাড়তি আসবাবপত্র বা বৈদ্যুতিক জিনিসপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখবেন না। সম্ভব হলে বয়স্ক মানুষের ঘরের সাজসজ্জায় বদল আনুন।
বাড়িতে বয়স্কদের নিয়মিত ডাক্তারি চেকআপে নিয়ে যান। লক্ষ্য রাখুন পেশার সুগার নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা। একইসঙ্গে সোডিয়াম এবং পটাশিয়াম পরীক্ষা করাটাও জরুরি। খেয়াল রাখতে হবে ওষুধের ওভার ডোজ হচ্ছে কিনা। শুয়ে থাকলে হঠাৎ করেই উঠে না বসে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।
তবে কোন প্রবীণ ব্যক্তি হঠাৎ করে পড়ে গেলে আগে আঘাতের জায়গায় বরফ দিন। মাথায় চোট লাগলে শীঘ্রই এমআরআই করিয়ে নিতে হবে। পড়ে যাবার পর রোগী শয্যাসায়ী থাকলে খেয়াল রাখতে হবে যেন তার বেডসোর না হয়ে যায়।রোগীর শরীরের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত ফিজিওথাপি করানো প্রয়োজন।