ক্ষমতায় এসেই সপ্তম পে কমিশনের ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই ঘোষণার পর ইতিমধ্যেই কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এবার সোমবার নবান্নে প্রথম বৈঠক করল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গঠিত সপ্তম বেতন কমিশন কমিটি। বৈঠকে কমিশনের কাজের রূপরেখা, বেতন কাঠামো এবং সরকারি কর্মীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
জানা গিয়েছে, কমিশনের কাজের অগ্রগতি এবং যাবতীয় তথ্য সাধারণের সামনে তুলে ধরতে দ্রুত একটি ওয়েবসাইট চালু করা হবে। ওই ওয়েবসাইটে কমিশনের বৈঠক, সুপারিশ, কাজের অগ্রগতি-সহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হবে।
কয়েক দিন আগেই সপ্তম পে কমিশনের একাধিক শর্ত নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল নবান্ন। সেখানে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৩ শতাংশ। নতুন বেতন কাঠামোয় তা বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে।
পাশাপাশি মূল্যবৃদ্ধির বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নতুন বেতন কাঠামো তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বেতন কাঠামোর সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন স্তরের সামঞ্জস্য আনার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে কমিশন।
মহার্ঘ ভাতার ক্ষেত্রেও ‘স্ট্যান্ডিং অর্ডার’-এর সুপারিশ করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। বাড়ি ভাড়া ভাতা, পরিবহণ ভাতা, শিশুদের শিক্ষাভাতা, হস্টেল ভরতুকি-সহ বিভিন্ন ভাতা কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।
অবসরকালীন সুবিধার ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খতিয়ে দেখবে কমিশন। এর মধ্যে রয়েছে কমিউটেড পেনশন ১১ বছর পর পুনরুদ্ধার, অবসরের সময় ছুটি নগদীকরণ এবং ৩০ জুন অবসর নেওয়া কর্মীদের একটি অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার বিষয়। সোমবারের প্রথম বৈঠকে এই বিষয়গুলি নিয়েই প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলে খবর।