একটা সময় বিধানসভায় সাধারণ মানুষদের হয়ে কথা বলতেন যারা আজ তারাই প্রাক্তন। জীবনের নানান ওঠাপড়ার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তারা। এবার রাজনীতির ময়দান ছেড়ে নিজেদের ন্যায্য প্রাপ্তির দাবিতে একজন হলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন বিধায়করা। রাজ্যে পালা বদল হয়েছে। কিন্তু বদলাইনি প্রাক্তন বিধায়কদের ভাগ্য। তাই এবার নিজেদের দাবি সরকারের সামনে তুলে ধরেছেন তারা।
শুক্রবার বিধানসভায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রাক্তন বিধায়করা। বাম কংগ্রেস তৃণমূল সকল দলের বিধায়করা একত্রিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেন প্রাক্তন বিধায়কদের পেনশন বৃদ্ধির দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যসভার অধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথ বসুর কাছে আবেদন জানাবেন।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে প্রাক্তন বিধায়কদের মাসিক পেনশন ১৪ থেকে ১৮ হাজার টাকার মধ্যে। অথচ মহারাষ্ট্রে এই অঙ্ক ৫০ থেকে ৭০ হাজার, ঝাড়খণ্ডে ৪০ থেকে ৭৫ হাজার এবং উত্তরাখণ্ড ও কর্নাটকেও প্রায় একই স্তরে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বাংলার পেনশন অনেকটাই কম বলে মনে করছেন প্রাক্তন বিধায়করা। তাই তাদের দাবি ন্যূনতম মাসিক ৫০ হাজার টাকা টেনশন নির্ধারণ করা হোক তাদের জন্য।
পূর্বতন সরকারের আমলেও একাধিকবার পেনশন বৃদ্ধির আবেদন জানিয়েছিলেন প্রাক্তন বিধায়করা। কিন্তু সেই সময় তাদের সেই দাবির মান্যতা দেওয়া হয়নি। রাজ্যের পালাবদলের পর পুনরায় সেই একই দাবি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে হাজির হয়েছেন প্রাক্তন বিধায়করা। এরই পাশাপাশি বিধায়ক হোস্টেলের ভাড়া কমানোর দাবি তুলেছেন তারা। প্রাক্তন বিধায়করা জানিয়েছেন, জেলা থেকে যেকোনো কাজে কলকাতা এলে বিধায়ক হোস্টেলে তারা থাকেন। সেক্ষেত্রে প্রতিদিন ৬০০ টাকা করে দিতে হয় তাদের। এই খরচ অনেকের পক্ষেই বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই এই ভাড়া কমানোর দাবি করেছেন তারা।
বিধানসভা সূত্রে খবর, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী ও অধ্যক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং ন্যূনতম ৫০ হাজার টাকা পেনশনের প্রস্তাব রেখেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে কিছুটা হলেও ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে বলে জানা গিয়েছে।
এককালে যারা জনগণের সেবা করেছেন আজ তারা বয়সের ভারে নুইয়ে পড়েছেন। অসুস্থতা, বার্ধক্য আর সীমিত আয়ের সঙ্গে লড়াই করছেন প্রতিনিয়ত। চিকিৎসার খরচ জোগাড় করাও কঠিন হয়ে উঠছে। তাই নিজেদের দাবির জন্য রাজ্য সরকারের অধীনস্থ হচ্ছেন প্রাক্তন বিধায়করা। তাদের এই দাবি সরকার আদেও মান্যতা দেয় কিনা সেটাই দেখার।




