নিউজ ডেস্ক: কখনও আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন, কখনও আবার মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা প্রযুক্তির দুনিয়া, সব মিলিয়ে নিঃশব্দে বদলাচ্ছে দেশের শিল্প মানচিত্র। একদিকে পুরনো শিল্পের চেনা কাঠামো, অন্যদিকে দ্রুত তৈরি হচ্ছে নতুন পরিকাঠামো। মহাকাশ থেকে শুরু করে চিপ, সৌরশক্তি, ডেটা সংরক্ষণ একাধিক ক্ষেত্রে গত কয়েক বছরে যে পরিবর্তন হয়েছে, তা আগামী দিনে ভারতের অর্থনীতির গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। এবার, সেই পরিবর্তন নিয়ে বড় সম্ভাবনার কথা উঠে এল আন্তর্জাতিক মহলের একটি রিপোর্টে।
যে পরিবর্তন কয়েক বছর আগেও ছিল ভারতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, এখন তা ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক Jefferies তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে ভারতের এই পরিবর্তনকে 'India's New Industrial Revolution' বা 'ভারতের নতুন শিল্প বিপ্লব' বলে উল্লেখ করেছে। ৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সরকারের ধারাবাহিক নীতিগত সহায়তা নতুন শিল্প গুলির বৃদ্ধির প্রধান কারণ। রিপোর্টে মূলত ছয়টি ক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মহাকাশ, ডেটা সেন্টার, সেমিকন্ডাক্টর, সৌরশক্তি, ইলেকট্রনিক্স এবং অ্যারোস্পেস। ২০২০ সালে বেসরকারি সংস্থার জন্য মহাকাশ ক্ষেত্র খুলে দেওয়ার পর Pixxel, Agnikul,Skyroot, Digantara-এর বেসরকারি সংস্থা দ্রুত এগিয়ে এসেছে। পাশাপাশি, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতি ৪০-৪৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
সেইসঙ্গে, সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রেও শুরু হয়েছে বড় বিনিয়োগ। প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প এগোচ্ছে। পাশাপাশি আরও ১৩ বিলিয়ন ডলারের অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, দক্ষ কর্মী, সরবরাহ ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা এখনও চ্যালেঞ্জ এ রয়েছে। এদিকে, ডিজিটাল পরিষেবা প্রসারের সঙ্গে বাড়ছে ডেটা সেন্টারের প্রয়োজন। গত ৫ বছরে ভারতের ডেটা সেন্টারের ক্ষমতা প্রায় ৫ গুন বেড়ে গিয়ে 2-GW তে হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে তা ১০-GW তে পৌঁছতে পারে বলে মনে করা হয়েছে। এই বৃদ্ধির ফলে পরিকাঠামো খাতে বিপুল বিনিয়োগের সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।
ইলেকট্রনিক্স শিল্পেও বদল আসছে। শুধুমাত্র মোবাইল সংযোজন নয়, এবার দেশের যন্ত্রাংশ তৈরির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ECMS ও MPMS-এর মত প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী ছয় বছরে মোবাইল যন্ত্রাংশের প্রায় ৫০ শতাংশ দেশে তৈরীর করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি, সৌরশক্তিতে প্রায় ৩৫ GW সেল উৎপাদন ক্ষমতা ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে। আরও প্রায় ১০০ GW ক্ষমতা তৈরির কাজ চলছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সৌর উৎপাদন শৃঙ্খল এর প্রায় ৯০ শতাংশ দেশে তৈরি করার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে, এই ছয় ক্ষেত্রকে ঘিরে আগামী দিনে ভারতের শিল্প ও অর্থনীতির একটি নতুন অধ্যায় তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।