এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার কারণেই পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে কর্মরত এক অস্থায়ী স্বাস্থ্যকর্মীকে কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে নবান্ন এবং স্বাস্থ্য ভবনে অভিযোগপত্র পাঠিয়ে সুবিচারের আবেদন জানিয়েছেন ওই কর্মী। তাঁর অভিযোগের তীর হাসপাতালের সুপারের দিকে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুপার। অন্যদিকে, অভিযোগ সত্যি হলে যথাযথ পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
অভিযোগকারী জানিয়েছেন, ১৯৯৬ সাল থেকে তিনি ঘাটালের একটি সরকারি হাসপাতালে সাফাইকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। পরবর্তী সময়ে তাঁকে হাসপাতালের ওয়ার্ডে ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই কর্মীর দাবি, ২০০৭ সালে তিনি জানতে পারেন, তিনি এইচআইভি আক্রান্ত। নিয়মিত চিকিৎসার মধ্যেই রয়েছেন তিনি। তাঁর শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালের এক মেডিক্যাল অফিসার ‘ফিট সার্টিফিকেট’ও দিয়েছেন বলে দাবি তাঁর। অভিযোগ, তা সত্ত্বেও ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে তাঁকে কাজে আসতে নিষেধ করা হয়।
যদিও ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালের সুপার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ১৯৯৬ সাল থেকে কাজ করার তথ্য সঠিক নয়। ২০১৬-১৭ সাল থেকে মজুরিভিত্তিক কাজ করতেন ওই ব্যক্তি। হাসপাতালে একাধিক এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি কাজ করেন এবং কাউকেই কাজে আসতে নিষেধ করা হয়নি। তাঁর দাবি, ওই কর্মী নিজেই কাজে আসছেন না।
বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, এইচআইভি আক্রান্তদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। ঘাটালের অভিযোগ সত্যি হলে যথাযথ পদক্ষেপ করা হবে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, এইচআইভি আক্রান্ত কাউকে সামাজিক ভাবে বয়কট করা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।