কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: অবশেষে তৃণমূলের দুই শিবিরকেই 'প্রতিষ্ঠা দিবস' কর্মসূচি পালনে অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে কাউকে মেয়ো রোডে সভা করার অনুমতি দেয়নি আদালত। কালীঘাট তৃণমূলকে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে সভার অনুমতি দেওয়া হল। আর 'ঋতব্রত তৃণমূলকে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে সভার অনুমতি দিয়েছে আদালত।
আগামী ২৮ আগস্ট মেয়ো রোডে টিএমসিপির কর্মসূচি পালন করতে চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূলের দুই শিবির। আজ, মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলাটির শুনানির জন্য ওঠে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট বলেন,‘একসঙ্গেই অনুষ্ঠান করুন। ব্রিগেডে ১০ হাজার জমায়েতের অনুমতি দেব।’ বিচারপতির নির্দেশ, ‘দুই শিবিরেই যেন ১৫০০ হাজারের বেশি সমর্থক না থাকে এবং দুপুর ১২ টা থেকে ৩টে পর্যন্ত সভার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’
কালীঘাট তৃণমূলের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠা দিবসের সভার জন্য অনুমতি চেয়ে গত ২৭ জুলাই কলকাতা পুলিশকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। পরে ৩ অগাস্ট এবং ৭ অগাস্ট পুলিশের কাছে চিঠি দিয়ে অনুমতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও কোনও জবাব মেলেনি বলে অভিযোগ। এর পরেই সোমবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কালীঘাটপন্থী টিএমসিপি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে তাঁদের আইনজীবী বিষয়টি জানান। অন্যদিকে,ঋতব্রত শিবিরের তরফেও একই দিন, একই সময়ে এবং একই জায়গায় টিএমসিপি-র প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের জন্য কলকাতা পুলিশের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অবশেষে সেই মামলা নিয়ে আজ বড় রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট। দুই তৃণমূলকেই সভার অনুমতি দিল উচ্চ আদালত
১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠা হয় টিএমসিপি-র। তারপর থেকে প্রত্যেক বছর ২৮ অগাস্ট মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে তৃণমূলের ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করা হয়। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তাঁর দলের শীর্ষ নেতারা কর্মসূচিতে থাকতেন। কিন্তু,বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে দুই গোষ্ঠীতে তৈরি হয়েছে ৷ গত ২১ জুলাই ‘শহিদ দিবস’ আলাদা করে পালন করেছেন তৃণমূলের দুই শিবির। এবার ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসও আলাদাভাবে পালন করতে চলেছে দুই তৃণমূল।