কলকাতা, কেয়া মণ্ডল: নিউমার্কেট অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বড়সড় পদক্ষেপ পুলিশের। এবার গ্রেফতার করা হল এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বীরেশ্বর মিত্রকে। শনিবার সন্ধ্যায় বেহালার ডায়মন্ড হারবার রোডে নিজের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,বীরেশ্বর মিত্র শিখা ইন-এর মালিক। নিউমার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তে তাঁর নাম উঠে আসে। এরপরই তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখছিলেন তদন্তকারীরা। শেষ পর্যন্ত এদিন তাঁর বেহালার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
নিউমার্কেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। আগুন লাগার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের কারণ খুঁজতে শুরু হয় তদন্ত। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে একাধিক তথ্য পুলিশের হাতে আসে। সেই সূত্র ধরেই বীরেশ্বর মিত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক এবং পরে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন,অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে শিখা ইন-এর মালিকের কী ধরনের যোগ রয়েছে। আগুন লাগার নেপথ্যে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের আগে এবং পরে বীরেশ্বর মিত্রের গতিবিধিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ, ঘটনায় কারও গাফিলতি ছিল কি না এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, এই সমস্ত বিষয়ই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার (১৯ অগাস্ট) ভোররাতে আগুন লাগে নিউ মার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভয়াবহ আকার নেয়। হোটেলের ভিতরে আটকে পড়েন বহু আবাসিক। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ৯ জনের। মৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। চিকিৎসার জন্য তাঁরা কলকাতায় এসেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে বলে খবর।
ইতিমধ্যে,হোটেলের লিজ-হোল্ডার আবু জাফরকে গ্রেফতার করেছে তদন্তকারী দল। বুধবার গভীর রাতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তের স্বার্থে হোটেলের আরও দু’জন কর্মীকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তাঁদের মধ্যে একজন হোটেলের ম্যানেজার এবং অন্যজন কর্মী। অগ্নিকাণ্ডের আগে হোটেলের পরিস্থিতি কেমন ছিল, আগুন লাগার পর কী পদক্ষেপ করা হয়েছিল এবং উদ্ধারকাজে কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না, তাঁদের কাছ থেকে সেই সংক্রান্ত তথ্য জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।