অনেক দম্পতির ক্ষেত্রেই স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের আশা নিয়ে শুরু হয় পথচলা। তবে চেষ্টা করার পরও দ্রুত গর্ভধারণ না হলে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। চিকিৎসকদের মতে, বয়স, নারী ও পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্য, জীবনযাপন এবং সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার মতো একাধিক বিষয় গর্ভধারণের সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করে। তাই কতদিন পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে চেষ্টা করা উচিত এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন, তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু মহিলাদের ক্ষেত্রেই নয়, বয়স বাড়ার সঙ্গে পুরুষের প্রজনন ক্ষমতাতেও ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে বয়সের সঙ্গে শুক্রাণুর গুণমান এবং প্রজনন সক্ষমতায় প্রভাব পড়তে পারে, যা গর্ভধারণের সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করে। ৪০ বছরের বেশি বয়সি মহিলাদের ক্ষেত্রে আবার আরও আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলছেন চিকিৎসকরা। এই বয়সে প্রজনন ক্ষমতা তুলনামূলক দ্রুত হারে কমতে পারে। তাই সন্তানধারণের পরিকল্পনা করার সময়ই ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করলে প্রজনন ক্ষমতা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া এবং সম্ভাব্য চিকিৎসার পথ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
শুধু বয়সের ভিত্তিতেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয় না। কিছু শারীরিক সমস্যা থাকলে অপেক্ষা না করে আগেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। যেমন—মাসিক অনিয়মিত হওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত যন্ত্রণাদায়ক মাসিক, বারবার গর্ভপাত, PCOS বা এন্ডোমেট্রিওসিসের মতো প্রজনন সংক্রান্ত সমস্যা, আগে পেলভিক ইনফেকশনের ইতিহাস, জরায়ুতে ফাইব্রয়েড এবং কোনও ধরনের প্রজনন সংক্রান্ত অস্ত্রোপচারের ইতিহাস থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এই ধরনের সমস্যাগুলি দ্রুত চিহ্নিত করা গেলে উপযুক্ত চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা শুরু করা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে গর্ভধারণে দেরির সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে দম্পতিরাও পরিষ্কার ধারণা পেতে পারেন।