নিউজ ডেস্ক: প্রতিবছর বর্ষাকালে এবং বর্ষা-পরবর্তী সময়ে ভারতের জনস্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য অন্যতম বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়ায় ডেঙ্গু। মশার কামড়বাহিত এই মারাত্মক ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবার এক ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করতে চলেছে দেশ। জাপানের বিশ্বখ্যাত ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যালস (Takeda Pharmaceutical) এবং ভারতের স্বনামধন্য ডক্টর রেড্ডিজ ল্যাবরেটরিজের (Dr Reddy's Laboratories) যৌথ উদ্যোগে শিগগিরই ভারতের বাজারে আসতে চলেছে ডেঙ্গুর প্রতিষেধক টিকা 'কিউডেঙ্গা' (Qdenga)। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও নীতিগত অনুমোদন পাওয়ার পর ২০২৭ সালের প্রথমার্ধেই সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে পৌঁছে যাবে এই টিকা।
ন্যাশনাল সেন্টার ফর ভেক্টর বর্ন ডিজিজেস কন্ট্রোলের সরকারি তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালে ভারতে অন্তত ১,১৩,৪৫০ জন মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং ৯৫ জন প্রাণ হারান। এমন পরিস্থিতিতে এই টিকার আগমন ভারতের স্বাস্থ্য খাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
কিউডেঙ্গা টিকার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি চার থেকে ষাট বছর বয়সী যেকোনো শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ককে ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি প্রধান ভিন্ন রূপ (Serotypes) থেকেই পূর্ণ সুরক্ষা প্রদান করতে সক্ষম। চিকিৎসা বিজ্ঞানের অন্যতম বড় স্বস্তি হলো, এই টিকা নেওয়ার আগে কারও রক্তে অতীত ডেঙ্গু সংক্রমণের ইতিহাস জানার জন্য কোনো বিশেষ রক্ত পরীক্ষার (Pre-vaccination testing) প্রয়োজন পড়বে না। ০.৫ মিলিলিটারের দুটি আলাদা ইনজেকশনের মাধ্যমে তিন মাসের ব্যবধানে এই টিকার দুটি ডোজ সম্পন্ন করতে হয়।
ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্যে প্রকাশ পেয়েছে যে, টিকার দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের এক বছর পর এটি ডেঙ্গু সংক্রমণ রোধে ৮০.২ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর ভূমিকা নেয়। কেবল তা-ই নয়, টিকা গ্রহণের ১৮ মাস পর ডেঙ্গুজনিত জটিলতায় রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি ৯০.৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে এসেছে।
তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, ভ্যাকসিন এলেও মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, জমা জল পরিষ্কার রাখা এবং ব্যক্তিগত সতর্কতা অবলম্বন করার গুরুত্ব কিন্তু মোটেই কমে যাবে না। সব ঠিক থাকলে ২০২৭ সালে কিউডেঙ্গার আগমন ভারতের ডেঙ্গু প্রতিরোধ ব্যবস্থার এক নতুন ও আশাব্যঞ্জক অধ্যায় সূচনা করবে।