বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবিন্যাসের পরিবর্তন হচ্ছে, জমি দখল এবং ধর্মীয় কারণে জমি হাতবদল হতেও দেখা যাচ্ছে। তাই এই তিনটি ইস্যুকে সামনে রেখে এবার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। ধর্ম পরিবর্তন ও জমি কেনাবেচা দুটি ক্ষেত্রেই নতুন একটি আইন আনার পরিকল্পনা নিশ্চয় রাজ্য।
মঙ্গলবার বাঁকুড়ায় প্রশাসনিক সভা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত এলাকায় বিএসএফকে জমি দেওয়া থেকে শুরু করে ওবিসির অবৈধ তালিকা বাতিল, ইমাম-মোয়াজ্জেম ভাতা বন্ধ এবং গোমাতার সম্মান রক্ষায় বর্তমান রাজ্য সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বরদাস্ত করা হয়নি মহরমে অস্ত্র প্রদর্শনও।
এরই পাশাপাশি রাজ্যে ইউসিসি চালু করার কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বড় ঘোষণা জমি ক্রয়-বিক্রয়কে কেন্দ্র করে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী দিনে সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ দুটি কাজ বাকি রয়েছে। এক জমি ক্রয় বিক্রয় ও ধর্ম পরিবর্তন।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। তবে কি অসমের ধাঁচেই চলবে বাংলা। কারণ অসমে ইতিমধ্যেই এই ব্যবস্থা চালু রয়েছে। যদি কোনো ভিন্ন ধর্মের ব্যক্তির কাছে জমি বিক্রি করতে হয় তবে সরকারের কাছে তার অনুমতি নিতে হবে। ক্রেতার আয়ের উৎস ও স্থানীয় সামাজিক পরিস্থিতি কি রয়েছে তার সমস্ত তথ্য সরকারকে দিতে হবে। তার উপরেই জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে। এবার সেই নিয়ম কি বাংলাতে চালু হতে চলেছে! যদিও এ-বিষয়ে কোনো কিছু স্পষ্ট হয়নি এখনো পর্যন্ত।
তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানান জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে কি ‘ল্যান্ড জেহাদ’ রুখতে তৈরি নতুন আইন! বিভিন্ন মহলে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।