যুদ্ধের ময়দান এবার আরো গভীরে। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের চার বছরের ইতিহাসের অন্যতম বড় ও প্রাণঘাতী হামলা চালালো ইউক্রেন। ইউক্রেন সীমান্তের থেকে ১০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে রাশিয়ার তাতারস্তানে অত্যন্ত ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। সোমবার নিঝনেকামস্কের শিল্পাঞ্চলে হওয়া এই হামলায় এখনো পর্যন্ত ১৩ জন নিহত হয়েছেন এবং ৭৫ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে । নিহতদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর দাবি, রাশিয়ার সামরিক ও জ্বালানি পরিকাঠামাকে দুর্বল করাই ছিল এই হামলার প্রধান লক্ষ্য। হামলার প্রধান নিশানা ছিল তানেকো তেল শোধনাগার যা রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রিফাইনারি এবং তাতনেফ্ট এর পরিচালনাধীন। এই হামলায় নিহতদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে। নিহতদের মধ্যে তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানের কিছু নাগরিক রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। যদিও রাশিয়ার জ্বালানি অর্থনীতিতে আঘাত হানতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ফুটেজে দাবি করা হয়েছে, হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে ঘন কালো ধোয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা গিয়েছে। তবে ফুটেজের সত্যটা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইউক্রেন হামলার পরেই পালটা আক্রমণে নামে রাশিয়া। ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলের বুগাইভকা গ্রামে ভারী কামান ও গোলা বর্ষণের অভিযোগ উঠেছে রাশিয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে। সেখানে অন্তত পাঁচ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিস্ফোরণে বহু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়েছে। এইদিকে দুই দেশই বিপুলসংখ্যক ড্রোন ধ্বংসের ও ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে। ইউক্রেন বিমান বাহিনীর দাবী, রাতভর রাশিয়া ১২৬ টি ড্রোন ছুড়েছে। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, রাতভর ইউক্রেন থেকে ছোড়া ৪৫৬টি ড্রোন তারা ধ্বংস করেছে।
রুশ হামলায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ পরিকাঠামোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় আশঙ্কা এখন ইউক্রেনের শীত। শীতের আগে বিদ্যুৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ইউক্রেনে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রুশ হামলায় দেশের তাপবিদ্যুৎ পরিকাঠামো ভয়াবহ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে তাপমাত্রা মাইনাস কুড়ি ডিগ্রিতে নামলে সাধারণ মানুষ জল ও বিদ্যুৎ সংকটে পড়তে পারেন।