তুরস্ক ও সৌদি আরবের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ বিশ্বজুড়ে ইসলামি দেশগুলোকে NATO-র আদলে সামরিক জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। আসিফ বলেন, 'এই চুক্তির দরজা অন্য দেশের জন্য বন্ধ রাখা উচিত নয়।' তিনি বলেছেন
'দেখুন, আমরা অন্য দেশের জন্য দরজা বন্ধ করতে পারি না। এটি কোনো এক্সক্লুসিভ ক্লাব বা গুটিকয়েক দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো গোষ্ঠী হওয়া উচিত নয়। এটি আমার ব্যক্তিগত মতামত। এর পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়া উচিত। আমার মতে, মুসলিম দেশগুলোর উচিত তাদের পারস্পরিক মতপার্থক্য কিংবা দ্বিপাক্ষিক বিরোধগুলো একপাশে সরিয়ে রেখে ন্যাটোর আদলে ঐক্যবদ্ধ হওয়া।'
মক্কায় তুরস্ক ও সৌদি আরবের সাথে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের দিনই এই প্রস্তাব তোলেন তিনি। এই চুক্তির শর্ত, স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর যে কারো ওপর আক্রমণকে তিন দেশের ওপরই আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। শুক্রবার মক্কার আল-সাফা প্রাসাদে যৌথভাবে প্রার্থনার পর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। চুক্তিটির নাম রয়েছে 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' (Mecca Joint Defence Agreement)। দেশ তিনটি চুক্তিটি সম্পর্কে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তবে চুক্তির মূল পাঠ্য বা বিস্তারিত নথি প্রকাশিত হয়নি। এই নথিটির বিবৃতিতে 'যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ' গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ব্লুমবার্গ-রিপোর্টে তুর্কি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি- 'এই চুক্তির আওতায় প্রতিরক্ষা সক্ষমতার যৌথ উন্নয়ন, যৌথ সামরিক মহড়া এবং সামরিক কর্মীদের প্রশিক্ষণের মতো বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।' এরদোয়ান তাঁর নিজস্ব 'এক্স' পোস্টে বলেছেন, ‘এটি যৌথ প্রতিরক্ষা-শিল্প প্রকল্প এবং সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী সহযোগিতার একটি প্রক্রিয়া।’