পূর্ব বর্ধমান, কেয়া মণ্ডল: শক্তিগড়ের ল্যাংচা শুধু বর্ধমান নয়, গোটা বাংলায় জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। দূর দূরান্ত যাত্রী থেকে শুরু করে স্থানীয় ক্রেতা, শক্তিগড়ে এসে ল্যাংচা না কিনে ফেরেন না। সেই জনপ্রিয় মিষ্টির ব্যবসাতেই এবার চিন্তার ছায়া। আচমকা চিনির দাম বেড়ে যাওয়ায় ল্যাংচা তৈরির খরচ বেড়েছে। ফলে মিষ্টির দাম কীভাবে সামলানো হবে, তা নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, ল্যাংচা তৈরির অন্যতম প্রধান উপকরণ চিনি। ফলে চিনির বাজারদর বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে উৎপাদন খরচে। সম্প্রতি বাজারে চিনির দাম কেজিপিছু ৭০ টাকার গণ্ডি পেরিয়েছে। কয়েক দিন আগেও যে চিনি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছিল, তার দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় হিসাব পাল্টে গিয়েছে ব্যবসায়ীদের।
শুধু চিনিই নয়, ল্যাংচা তৈরিতে ব্যবহৃত ছানা-সহ অন্যান্য উপকরণের দামও কম নয়। সব মিলিয়ে প্রতিটি ল্যাংচা তৈরির পিছনে আগের তুলনায় বেশি খরচ হচ্ছে। কিন্তু সেই অনুপাতে বিক্রয়মূল্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে রয়েছে বড় সমস্যা। কারণ, শক্তিগড়ের ল্যাংচার ক্রেতাদের একটা বড় অংশ পথচলতি মানুষ। দাম হঠাৎ বেড়ে গেলে তাঁরা আগের মতো কেনাকাটা করবেন কি না, তা নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন দোকানদাররা।
বর্তমানে শক্তিগড়ের বিভিন্ন দোকানে আকার ও মান অনুযায়ী বিভিন্ন দামের ল্যাংচা বিক্রি হয়। কম দামের ল্যাংচা সাধারণ মানুষের কাছে যথেষ্ট জনপ্রিয়। সেই কারণে একলাফে দাম বাড়ানোর পরিবর্তে বিকল্প পথ খুঁজছেন ব্যবসায়ীরা। কেউ কেউ ল্যাংচার আকার সামান্য কমিয়ে আগের দাম বজায় রাখার কথা ভাবছেন। আবার অনেকে মনে করছেন, কাঁচামালের দাম যদি এ ভাবে বাড়তেই থাকে, তা হলে শেষ পর্যন্ত দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় থাকবে না।
অন্যদিকে ক্রেতাদেরও বক্তব্য, প্রতিদিনের বাজারে একের পর এক পণ্যের দাম বাড়ছে। তার মধ্যে বাংলার জনপ্রিয় এই মিষ্টির দাম বাড়লে তার প্রভাব পড়বে সাধারণ ক্রেতার পকেটেও। ফলে চিনির বাজারদর এখন শুধু মিষ্টিপ্রেমীদের নয়, শক্তিগড়ের ল্যাংচা ব্যবসায়ীদের কাছেও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী দিনে কাঁচামালের দাম কোন দিকে যায়, তার উপরই অনেকটা নির্ভর করছে ল্যাংচার দাম এবং ব্যবসার ভবিষ্যৎ।